জামালপুরের মেলান্দহের বহুল আলোচিত প্রতারক সেই ইমাম মুফতি মিজানুর রহমান (৪৭)কে আটক করেছে মেলান্দহ থানা পুলিশ। ২৮ অক্টোবর দিবাগত রাতে কুমিল্লার লাকসাম থেকে আটকের কথা নিশ্চিত করেছেন অফিসার ইনচার্জ এটিএম মাহমুদুল হক। আটককৃত ইমাম লাকসাম উপজেলার উত্তর গাজীরপুর এলাকার ইসমাইল মজুমদারের ছেলে বলে জানা গেছে। প্রাথমিকভাবে গ্রেপ্তারকৃত মিজানুর রহমানকে অনলাইন জুয়াড়ি এবং অভিনব প্রতারক বলে মনে করা হচ্ছে। এ সংক্রান্ত ৮ অক্টোবর দৈনিক ইত্তেফাক অনলাইন এবং ৯ অক্টোবর প্রিন্ট ভার্সনে, এফএনএসসহ কয়েকটি মিডিয়ায় রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছিল।
প্রায় তিন মাস আগে মাও. মিজানুর রহমান (৪৭) মেলান্দর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী মালঞ্চ কেন্দ্রীয় মসজিদের ইমাম ও খতিব হিসেবে যোগদান করেন। ইউনাইটেড ট্রাস্টের আওতায় মসজিদের ওই ইমামকে মাসিক ৪০ হাজার টাকা সম্মানি এবং আলিশান বাড়িতে স্বপরিবারে থাকার ব্যবস্থা করা হয়। তিনি এলাকাবাসির কাছ থেকে প্রতারণার আশ্রয়ে ১৫ লক্ষাধিক টাকা নিয়ে ৭ আক্টোবর রাতের অন্ধকারে স্বপরিবারে গা-ঢাকা দেন। তার মোবাইল ফোনও বন্ধ রাখা হয়।
মালঞ্চ আল আমিন জমিরিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাও. শওকত আলী জানিয়েছেন, হুজুরের বাড়ির কাজের জন্য ইমাজেন্সি ২ লাখ টাকা দিয়েছি। সিঙ্গাপুরে থাকা ওই ইমাম সাহেবের আত্মীয়র পাঠানো স্বর্নের চালান এয়ারপোর্ট থেকে আনার অজুহাতে মক্তবের শিক্ষক মাও. জোবায়ের হোসেনসহ আরো কয়েক জনের কাছ থেকেও সর্বমোট ১৫ লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেন। ওই ইমাম কখনো নিজেকে কুমিল্লা, কখনো যাত্রাবাড়ি, কখনো আশুলিয়ার বাসিন্দা পরিচয় দিতেন। মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন জানান-বহু মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার বিষয়ে মেলান্দহ থানায় অভিযোগ করা হয়েছে।
মেলান্দহ থানার অফিসার ইনচার্জ এটিএম মাহমুদুল হক জানিয়েছেন, প্রতারক ইমাম ও খতিব মিজানুর রহমান গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তার বিরুদ্ধে দেশের অন্যান্য স্থান থেকেও একই কায়দায় অর্থ হাতিয়ে নেয়ার মামলা হয়েছে। ওই ইমাম মূলত: অনলাইনে জুয়ার আসক্তি থেকেই প্রতারণার আশ্রয়ে টাকা নেয়ার কথাও স্বীকার করেছে। প্রথম বারের মতো গ্রেপ্তারকৃত মুফতি মিজানুর রহমানকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে ভূক্তভোগিদের পক্ষে মালঞ্চ গ্রামের আ: সালাম মাস্টারের ছেলে ইসমাইল হোসেন রাজা (৫০) বাদি হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন।