টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলাধীন মুন্সিনগর মৌ: তোমেজ উদ্দিন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি ভবন বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে দীর্ঘদিন ধরে। ভবনটার অবস্থা এমন বেহাল যে, যে কেন সময় ধ্বসে পরে জানমালের ক্ষতি হতে পারে। বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আগেই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এ ভবনটি অপসারনের দাবি জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী-অভিভাবক।
সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় ৪২ বছর আগে শ্রেনী কক্ষের জন্য নির্মিত এ ভবনটি ব্যবহারের একেবারেই অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে মরিচাধরা রড বেরিয়ে গেছে। পিলার এবং দেয়ালের পলেস্তারাও খসে পড়েছে। ব্যবহার অনুপযোগী ভবনটি দ্রুতই অপসারন করা প্রয়োজন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন অভিভাবক জনানা, ব্যবহারের অনুপযোগী হওয়ায় ভবনটি পরিত্যাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। সন্ধ্যা হলেই ভবনের ভিতরে বসে বখাটেদের আড্ডা। গভির রাত পর্যন্ত চলে মাদকের ডামাডোল। অন্তত মাদকের আস্তানা নির্মূল করতে ভবনটি অপসারন করা জরুরী হয়ে পড়েছে।
৮ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী জুই ইসলাম জানায়, আমাদের বিদ্যালয়ে একটি পুরনো ভবন রয়েছে। ভবনটি বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। পরিত্যাক্ত হওয়ায় এখানে বহিরাগতরা আড্ডা জমায়। এতে আমরা নিরাপত্তাহীনতা বোধ করছি। আমাদের নিরাপত্তার বিষয়টি আমলে নিয়ে ভবনটির দ্রুত অপসারনের দাবি জানাচ্ছি। ১০ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী সানজিদা আক্তার জানান, আমাদের বিদ্যালয়ে একটি পুরাতন ভবন আছে সেটি যখন তখন ভেঙ্গে যেতে পারে। আমাদের খেলাধুলা এবং চলাফেরায় আমরা ঝুঁকিতে আছি। ভবনটি দ্রুত অপসারন করে সম্ভাব্য দুর্ঘটনার কবল থেকে আমাদের রক্ষার দাবি জানাচ্ছি। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মোজাম্মেল হোসেন খান বলেন, সেই প্রতিষ্ঠাকালিন সময়ের ৪২ বছরের পুরানো ভবন এখন আর ব্যবহার উপযোগী নেই। ভবনটি একেবারেই বেহাল হয়ে পড়েছে। পরিত্যক্ত হওয়ায় ভবনটিতে বখাটেদের আড্ডা বসে। ভবনটি অপসারন করা না গেলে ধ্বসে পরে জানমালের ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. তারিকুল ইসলাম বলেন, মুন্সিনগর মৌ. তোমেজ উদ্দিন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে একটি পুরাতন জরাজীর্ণ ঝুকিপূর্ন ভবন রয়েছে। বিদ্যালয়ে মেয়েদের নিরাপত্তার স্বার্থে এবং আঙ্গিনার সৌন্দর্য বাড়াতে ভবনটি অপসারন করা জরুরী। বিষয়টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে।