চা-বাগান, লেবু আর সবুজ পাহাড়ের জনপদ শ্রীমঙ্গলে এবার নতুন সম্ভাবনা নিয়ে এসেছে তুলা চাষ। উপজেলার আশিদ্রোন ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাইটুলা গ্রামের কৃষক তাপশ কুর্মির তুলাখেতে ইতোমধ্যে ফুল ফুটেছে। তুলা উন্নয়ন বোর্ডের সহযোগিতায় তাঁর এই উদ্যোগ স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশা করছেন, উপযুক্ত পরিচর্যা ও ভালো ফলন নিশ্চিত করা গেলে মৌলভীবাজার জেলায় তুলা চাষ সম্প্রসারণের নতুন পথ তৈরি হতে পারে।
সরেজমিনে সাইটুলা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, তাপশ কুর্মির তুলাগাছে ফুল ফুটেছে। নতুন এই ফসল ঘিরে কৃষকের মনে আশার সঞ্চার হয়েছে। তুলা বাংলাদেশের বস্ত্রশিল্পের অন্যতম প্রধান কাঁচামাল। দেশে তুলার চাহিদার বড় একটি অংশ আমদানির মাধ্যমে পূরণ করতে হয়। এ অবস্থায় দেশের নতুন নতুন অঞ্চলে তুলা চাষ সম্প্রসারণ অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
কৃষক তাপশ কুর্মি জানান, তুলা চাষের জন্য সরকারিভাবে বীজ, সার ও কীটনাশক দিয়ে সহযোগিতা করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ ও পরামর্শ পাওয়ায় তিনি তুলা চাষে আগ্রহী হয়েছেন। তুলা উন্নয়ন বোর্ডের মাঠপর্যায়ের স্টোর কাম ফিল্ডম্যান শুক দেব রায় জানান, মৌলভীবাজার জেলায় তুলা চাষ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা রয়েছে। এ লক্ষ্য নিয়ে কৃষকদের সঙ্গে যোগাযোগ, মতবিনিময় ও উদ্বুদ্ধকরণ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। শ্রীমঙ্গলে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি কৃষকদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন এবং তুলা চাষে তাঁদের এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করছেন। এতে কৃষকদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে বলেও জানান তিনি। তুলা একটি অর্থকরী আঁশজাতীয় ফসল। এর আঁশ থেকে সুতা ও কাপড় তৈরি হয়। তুলাবীজ থেকে ভোজ্যতেল উৎপাদন করা যায় এবং তেল নিষ্কাশনের পর অবশিষ্ট খৈল পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ফলে তুলা চাষ শুধু বস্ত্রশিল্পের কাঁচামাল সরবরাহেই নয়, কৃষকের আয় বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও ভূমিকা রাখতে পারে।
তুলা চাষের জন্য সাধারণত উঁচু, উর্বর ও পানি নিষ্কাশনের সুবিধাযুক্ত জমি উপযোগী। তবে স্থানীয় মাটি, আবহাওয়া, বৃষ্টিপাত ও রোগবালাইয়ের পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে চাষাবাদের উপযুক্ত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি। স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আলাউদ্দিন বলেন, “শ্রীমঙ্গলে এবারই প্রথমবারের মতো তুলা চাষ শুরু হয়েছে।” তাঁর মতে, নতুন এই ফসলের চাষ সফল হলে স্থানীয় কৃষিতে বৈচিত্র্য আসার পাশাপাশি কৃষকদের জন্য বিকল্প আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। শ্রীমঙ্গলে তুলা চাষের এই উদ্যোগ সফল হলে স্থানীয় কৃষিতে নতুন ফসল যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি কৃষকদের বিকল্প আয়ের পথ খুলতে পারে। তাপশ কুর্মির ক্ষেতের ফলনই এখন এ অঞ্চলে তুলা চাষের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা মূল্যায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে।