পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ও ব্যস্ততম বাণিজ্যিক কেন্দ্র ফকিরগঞ্জ বাজার যেন এখন দুর্গন্ধ ও ময়লা-আবর্জনার ডিপোতে পরিণত হয়েছে। বাজারের হোটেল-রেস্তোরাঁগুলোর চরম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং প্রধান সড়কের ওপর নিয়মবহির্ভূতভাবে মুরগির দোকান বসিয়ে বর্জ্য ফেলার কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ পথচারী, ক্রেতা ও স্থানীয় বাসিন্দারা।স্থানীয়দের অভিযোগ, বাজারের সিংহভাগ হোটেল-রেস্তোরাঁর ভেতরের ও বাইরের পরিবেশ অত্যন্ত নোংরা। খোলা জায়গায় পচা-বাসি খাবার রাখা, মাছি ভনভন করা পরিবেশ এবং ব্যবহৃত আবর্জনা যত্রতত্র ফেলে রাখার দৃশ্য নিত্যদিনের। এসব খাবার খেয়ে সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত পেটের পীড়াসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন। অন্যদিকে, ফকিরগঞ্জ বাজারের প্রধান সড়কের ওপরই গাদাগাদি করে গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি বয়লার মুরগির মাংসের দোকান। এসব দোকানের মুরগির বর্জ্য, রক্ত ও নোংরা পানি সরাসরি সড়কের ওপর ও খোলা ড্রেনে ফেলা হচ্ছে। রোদ-বৃষ্টির সঙ্গে এই বর্জ্য পচে সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র দুর্গন্ধ। ফলে সড়ক দিয়ে যাতায়াতকারী পথচারী, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও যানবাহন চালকদের নাকে রুমাল চেপে চলাচল করতে হচ্ছে। সামান্য বাতাসেই দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে পুরো বাজার এলাকায়, যা জনজীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। বাজারের একাধিক ব্যবসায়ী ও সাধারণ পথচারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ফকিরগঞ্জ বাজারটি উপজেলার প্রধান কেন্দ্র হলেও পরিচ্ছন্নতার কোনো বালাই নেই। প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কিংবা স্যানিটারি ইন্সপেক্টরের নিয়মিত তদারকি করার কথা থাকলেও তারা রহস্যজনক কারণে নীরব ভূমিকা পালন করছেন। মাঝেমধ্যে লোকদেখানো দু-একটি অভিযান হলেও স্থায়ী কোনো সমাধান হচ্ছে না।”স্থানীয় সচেতন মহলের দাবী, অবিলম্বে ফকিরগঞ্জ বাজারের হোটেল-রেস্তোরাঁগুলোতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, সড়কের ওপর থেকে মুরগির দোকান অপসারণ এবং স্যানিটারি ইন্সপেক্টরের নিয়মিত নজরদারি জোরদার করার জন্য উপজেলা প্রশাসন ও উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।