অনিয়ন্ত্রিত মাদকপাচার

আঞ্চলিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ

এফএনএস | প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ০৩:৩৭ পিএম
আঞ্চলিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ

বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান একদিকে অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে, অন্যদিকে আন্তসীমান্ত অপরাধ চক্রেরও আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করেছে। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগস্থলে অবস্থানের কারণে আন্তর্জাতিক মাদকচক্র বাংলাদেশকে ক্রমশ একটি ট্রানজিট করিডোর হিসেবে ব্যবহার করছে। মিয়ানমার সীমান্ত হয়ে ইয়াবা প্রবেশের বিষয়টি বহুদিনের বাস্তবতা। এখন তার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে নতুন ধরনের মাদক এবং নতুন পাচারপথ। অর্থাৎ চক্রগুলো আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কৌশলের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেদের কৌশলও বদলাচ্ছে। প্রশ্ন হলো, বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ এবং অসংখ্য মামলা হওয়ার পরও কেন পাচারকারীরা নিরুৎসাহিত হচ্ছে না? এর একটি কারণ হতে পারে, পাচার নেটওয়ার্কের নিচের স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ওপরের স্তর অক্ষত থেকে যাচ্ছে। বাহক, কুরিয়ার কিংবা খুচরা ব্যবসায়ীরা ধরা পড়লেও অর্থদাতা, সমন্বয়কারী এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগ রক্ষাকারীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান সাফল্য তুলনামূলক কম। ফলে একটি নেটওয়ার্ক ভেঙে পড়ার আগেই আরেকটি নেটওয়ার্ক গড়ে উঠছে। মাদকবিরোধী অভিযানের কার্যকারিতা তাই গ্রেপ্তারের সংখ্যা দিয়ে নয়, বরং অপরাধচক্রের আর্থিক ও সাংগঠনিক কাঠামো কতটা ধ্বংস করা গেল, তা দিয়ে মূল্যায়ন করতে হবে। এই বাস্তবতায় আঞ্চলিক সহযোগিতার গুরুত্বও নতুন করে সামনে এসেছে। মাদকপাচার কোনো একক দেশের সমস্যা নয় এবং কোনো দেশ একা এই চক্র মোকাবিলা করতে পারে না। সীমান্ত নিরাপত্তা, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, অর্থপাচার নিয়ন্ত্রণ এবং আন্তসীমান্ত অপরাধ দমনে প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে আরও কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন। আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থাগুলোকেও এ ক্ষেত্রে বাস্তবধর্মী ভূমিকা পালন করতে হবে। কেবল বৈঠক ও ঘোষণার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো, দেশটি যেন স্থায়ীভাবে আন্তর্জাতিক মাদকপাচারের রুট হিসেবে পরিচিতি না পায়। এ ধরনের পরিচিতি শুধু নিরাপত্তা ঝুঁকিই বাড়ায় না, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে। তাই এখন প্রয়োজন সীমান্তে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি জোরদার করা, গোয়েন্দা সক্ষমতা বৃদ্ধি করা এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে পাচারচক্রের মূল অর্থনৈতিক ও সাংগঠনিক কেন্দ্রগুলোকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা। মাদকের বিরুদ্ধে প্রকৃত সাফল্য তখনই আসবে, যখন চক্রের বিচারের মুখোমুখি করা সম্ভব হবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে