বগুড়ায় এইচএসসির ফল বিপর্যয়, পাঁচ প্রতিষ্ঠানে পাস করেনি কেউ

এফএনএস ( মো: রাজিবুল ইসলাম রক্তিম; বগুড়া) : | প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ০২:০৫ পিএম
বগুড়ায় এইচএসসির ফল বিপর্যয়, পাঁচ প্রতিষ্ঠানে পাস করেনি কেউ

চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে বগুড়ার পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাসের হার শূন্য। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৫৪ জন শিক্ষার্থীর একজনও উত্তীর্ণ হতে পারেনি। শনিবার (৩১ অক্টোবর) বেলা ১১টায় প্রকাশিত ফলাফলে এ চিত্র উঠে এসেছে। এমন ফলাফল ঘিরে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পাঠদান, শিক্ষার পরিবেশ, শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি ও সার্বিক শিক্ষার মান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, শতভাগ পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে বগুড়ার গাবতলী উপজেলার দুটি, ধুনট উপজেলার একটি এবং কাহালু উপজেলার দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, গাবতলী উপজেলার তছলিম উদ্দিন তরফদার কলেজ থেকে এ বছর ৪৬ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তবে তাদের মধ্যে একজনও পাস করতে পারেনি। একই উপজেলার বাগবাড়ি মডেল মহিলা কলেজ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া তিনজন শিক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হয়েছে।

অন্যদিকে, ধুনট উপজেলার গোসাইবাড়ি মহিলা কলেজ থেকে দুইজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। কাহালু উপজেলার দুর্গাপুর আইডিয়াল মহিলা কলেজ থেকেও পরীক্ষায় অংশ নেওয়া দুইজন শিক্ষার্থীর সবাই ফেল করেছে। এ ছাড়া একই উপজেলার আল্লামার তাকিয়া হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া একমাত্র শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি। পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে তছলিম উদ্দিন তরফদার কলেজে সবচেয়ে বেশি ৪৬ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল। বাকি চারটি প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষার্থী ছিল যথাক্রমে তিন, দুই, দুই ও একজন। সব মিলিয়ে ৫৪ জন পরীক্ষার্থীর ফলাফলই এসেছে অকৃতকার্য হিসেবে।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একাধিক বছর বা একবারে শতভাগ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ার ঘটনা গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের পাঠদানের মান, নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম, শিক্ষক উপস্থিতি, বিষয়ভিত্তিক দুর্বলতা, নির্বাচনী পরীক্ষার ফলাফল এবং পরীক্ষার প্রস্তুতির বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা জরুরি। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ব্যর্থতার প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। তবে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের এমন ফলাফলের পেছনে কী কারণ রয়েছে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ কিংবা শিক্ষা বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সামগ্রিকভাবে এ ফলাফল শুধু সংশ্লিষ্ট ৫৪ জন শিক্ষার্থীর হতাশার বিষয় নয়, বরং প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার মান ও শিক্ষা ব্যবস্থাপনা নিয়ে কার্যকর মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তাও সামনে এনেছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে