ছাত্রলীগ নেতার ছোট বোন সেফ হোমে, কারাগারে পরিবারের তিনজনসহ ৭

এফএনএস (একে কুদরত পাশা; দিরাই, সুনামগঞ্জ) : | প্রকাশ: ১ নভেম্বর, ২০২৬, ০৬:৩১ পিএম
ছাত্রলীগ নেতার ছোট বোন সেফ হোমে, কারাগারে পরিবারের তিনজনসহ ৭

সুনামগঞ্জে পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি কাজে বাধা ও আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার মামলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতা দেওয়ান শাহনেওয়াজ চৌধুরী প্রিন্সের অপ্রাপ্তবয়স্ক ছোট বোনকে সেফ হোমে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রোববার (১ নভেম্বর) সকালে তাকে শিশু আদালতে হাজির করা হলে বিচারক এ আদেশ দেন। একই মামলায় প্রিন্সের বাবা-মা, বন্ধুসহ সাতজনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

শিশু আদালতের বিচারক মাসুদুর রহমান প্রিন্সের ছোট বোনকে সেফ হোমে রাখার নির্দেশ দেন। মামলার নথিতে তার বয়স ১৬ বছর উল্লেখ করা হলেও আসামিপক্ষের আইনজীবীর দাবি, বাস্তবে তার বয়স আনুমানিক ১৪ বছর। সে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

আসামিপক্ষের আইনজীবী সাইদুর রহমান জানান, এজাহারে ওই কিশোরীর বিরুদ্ধে আলাদাভাবে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নেই। অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাকে জামিন দেওয়া যেত বলে তিনি মনে করেন। তবে আদালত জামিন না দিয়ে তাকে সেফ হোমে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। সুনামগঞ্জ কোর্ট ইন্সপেক্টর অজয় চন্দ্র দেব বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

কারাগারে পাঠানো ব্যক্তিরা হলেন সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক দেওয়ান শাহনেওয়াজ চৌধুরী প্রিন্স (২০), তার মা শামী আক্তার পলি (৩৮), বাবা দেওয়ান শাহরুখ রাজা চৌধুরী (৪৫), ছাতক উপজেলার জালালপুর গ্রামের কাওছার আহমদ সোহাগ (২১), দিরাই উপজেলার চণ্ডীপুর গ্রামের ইফাত আলম রাবিদ (২১), ধর্মপাশা উপজেলার সাদিপুর গ্রামের শাহরিয়ার সাদি (১৯) এবং সিলেটের ভাদেশ্বর গ্রামের তাকরিব রহমান তানহির (২০)। রোববার সকালে তাদের সুনামগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। আসামিপক্ষ জামিনের আবেদন না করায় আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।


পুলিশ জানায়, শনিবার (৩১ অক্টোবর) দিবাগত মধ্যরাতে সিলেটের একটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে প্রিন্সসহ অন্যদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের সুনামগঞ্জে নিয়ে আসা হয়।

সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ জানান, প্রিন্সসহ অন্যদের আটকের পর পুলিশের ওপর হামলা ও হুমকির ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। পরে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হলে সাতজনকে কারাগারে পাঠানো হয়। অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামিকে সেফ হোমে রাখার নির্দেশ দেন আদালত। এ মামলায় দেওয়ান ফারুক রাজা চৌধুরীর ছেলে ফাহিম রাজা চৌধুরী, হাসননগর এলাকার সুজন মিয়ার ছেলে রানা এবং জামালগঞ্জ উপজেলার কদমতলী গ্রামের বিজয় করের ছেলে রজয় করসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে নাশকতার মামলার আসামি হিসেবে প্রিন্সকে আটক করা হয়। আটকের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তিনি হাজতে অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে তাকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে এবং পরে সিলেটে নেওয়া হয়। এ সময় তাকে ছাড়িয়ে নিতে তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মব সৃষ্টি, পুলিশের কাজে বাধা, পুলিশকে আঘাত এবং আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে মামলা করা হয়।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে