হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসক-কর্মকর্তাদের পেলেন না স্বাস্থ্যমন্ত্রী, দুই নার্সকে বদলির নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ০৪:৫৪ পিএম
হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসক-কর্মকর্তাদের পেলেন না স্বাস্থ্যমন্ত্রী, দুই নার্সকে বদলির নির্দেশ
ছবি: সংগ্রহীত

মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে গিয়ে নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) এবং কয়েকজন চিকিৎসককে পাননি স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে দুই নার্সকে তাৎক্ষণিকভাবে অন্যত্র বদলির নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আকস্মিকভাবে ৫০ শয্যার কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ সময় তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন এবং ভর্তি রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন। রোগীদের চিকিৎসাসেবা, ওষুধের প্রাপ্যতা, পরিচ্ছন্নতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার খোঁজ নেন।

পরিদর্শনের সময় নির্ধারিত সময়ে ইউএইচএফপিও ও কয়েকজন চিকিৎসককে কর্মস্থলে না পেয়ে অপেক্ষা করেন মন্ত্রী। পরে তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি দুই নার্সের দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে তাঁদের তাৎক্ষণিকভাবে অন্যত্র বদলির নির্দেশ দেন।

হাসপাতালে জনবলসংকটের বিষয়টিও উঠে আসে পরিদর্শনে। এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, যেসব হাসপাতালে কর্মীর ঘাটতি রয়েছে, সেখানে পর্যায়ক্রমে জনবল বাড়ানো হবে। হাসপাতালগুলোর আউটসোর্সিং ব্যবস্থাও আরও কার্যকর করা হবে। রোগীরা যাতে দালালের হয়রানির শিকার না হন, সে জন্য জেলা প্রশাসকদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

সরকারি হাসপাতালের এক কিলোমিটারের মধ্যে নতুন কোনো বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিক স্থাপনের অনুমতি দেওয়া হবে না বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে অনিয়ম পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অবৈধভাবে পরিচালিত প্রতিষ্ঠান বন্ধেও পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

এর আগে সকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় মন্ত্রী বলেন, জেলা প্রশাসন ও সিভিল সার্জনের মাধ্যমে বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো পরিদর্শন করা হচ্ছে। কোথাও অনিয়ম পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে একসঙ্গে সব প্রতিষ্ঠান বন্ধ না করে ধাপে ধাপে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্বাস্থ্য খাতের অতীত পরিস্থিতি তুলে ধরে সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আগের ১৭ বছরে স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন খাতের বরাদ্দের অর্থ লুটপাট করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এর ফলে স্বাস্থ্য খাত সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। পর্যাপ্ত জনবল, টিকা ও ওষুধের অভাবে মানুষ প্রয়োজনীয় সেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের সময়ে উপজেলা হাসপাতালগুলো ১৯ শয্যায় উন্নীত করা হয়েছিল। পরে খালেদা জিয়ার সময়ে তা ৫০ শয্যায় করা হয়। এরপর হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা ও সেবার মান বাড়ানোর ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় এখন দেশের সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও কমিউনিটি ক্লিনিকের সেবার মান বাড়ানোর কাজ চলছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, স্বাস্থ্য খাতে প্রয়োজনীয় অর্থের ঘাটতি রয়েছে। আগের সরকারের সময়ে অর্থের অপচয় ও লুটপাটের কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বর্তমান সরকার দুর্নীতি ছাড়া কম খরচে উন্নয়নকাজ শেষ করার চেষ্টা করছে। স্বাস্থ্য খাতের জনবল, টিকা, ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকটও পর্যায়ক্রমে সমাধান করা হবে।

তিনি জানান, স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করতে ২৫ হাজার মিডওয়াইফ ও ২ হাজার ৫০০ নার্স নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ৫০০ চিকিৎসক কাজে যোগ দিয়েছেন।

কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ২৫০ শয্যার মাদারীপুর জেলা হাসপাতালও পরিদর্শন করেন। এ সময় মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. জাহান্দার আলী মিয়া, জেলা প্রশাসক মারজিনা আক্তার, পুলিশ সুপার মো. ফজলে এলাহীসহ হাসপাতালের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে