নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার তমরদ্দি ইউনিয়ন ও চরকিং ইউনিয়নের সংযোগস্থল আজমার খালের ওপর নবনির্মিত 'হোয়াইট সেতু' এলাকার মানুষের যাতায়াতের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটিয়েছে। যুগ যুগ ধরে যাতায়াতের চরম দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেয়ে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীদের মাঝে বইছে আনন্দের জোয়ার। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তমরদ্দি ও চরকিং ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী আজমার খালের ওপর কোনো স্থায়ী সেতু না থাকায় যুগের পর যুগ ধরে দুই পাড়ের হাজার হাজার মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হত। খালের ওপর একটি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকোই ছিল পারাপারের একমাত্র মাধ্যম। প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, বয়োবৃদ্ধ ও সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষকে এই নড়বড়ে সাঁকো দিয়ে চরম আতঙ্ক ও ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হত। বিশেষ করে বর্ষাকালে এই পারাপার আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠত। এলাকাবাসীর এই চরম দুর্ভোগ ও কষ্ট লাঘব করতে এগিয়ে আসেন হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল। তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও বিশেষ উদ্যোগে আজমার খালের ওপর আধুনিক ও দৃষ্টি নন্দন এই 'হোয়াইট সেতু' নির্মিত হয়। দীর্ঘদিনের এই জনদুর্ভোগ দূর হওয়ায় তমরদ্দি ও চরকিং ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের মধ্যে বইছে বাঁধভাঙা আনন্দ। নতুন এই সেতুটি চালু হওয়ায় দুই ইউনিয়নের মধ্যকার যোগাযোগ ব্যবস্থার অভূতপূর্ব উন্নয়ন ঘটেছে। এখন খুব সহজেই কোমলমতি শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সব পেশার মানুষ নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে যাতায়াত করতে পারছেন। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, হাতিয়া উপজেলা প্রশাসনের এই সময়োপযোগী ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ এলাকার গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থাকে এক ধাপ এগিয়ে নিয়েছে, যা সামাজিক-অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।