দেশে উচ্চ শুল্কের পণ্য আমদানি হ্রাসে সরকারের রাজস্ব আয়ে ধস

এফএনএস এক্সক্লুসিভ | প্রকাশ: ৯ জুন, ২০২৬, ০৮:১২ এএম
দেশে উচ্চ শুল্কের পণ্য আমদানি হ্রাসে সরকারের রাজস্ব আয়ে ধস

দেশে উচ্চ শুল্কের পণ্য আমদানি কমায় রাজস্ব আয়ে বড় ধস নেমেছে। ফলে নড় রাজস্ব ঘাটতিতে পড়েছে চট্টগ্রাম কাস্টম। বর্তমানে দেশে আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে গাড়ি, ইলেকট্রনিকস ও কসমেটিকসের মতো উচ্চ শুল্কের পণ্য আমদানি। তাতে দেশের সবচেয়ে বড় রাজস্ব জোগানদাতা প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের ওপর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ওই শুল্ক স্টেশন চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরেও বিশাল রাজস্ব ঘাটতির মুখে পড়তে যাচ্ছে। চলতি অর্থবছরের শুরুতে চট্টগ্রাম কাস্টমের জন্য রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিলো এক লাখ কোটি টাকা। তবে অর্থবছরের ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী মাত্র ৮৪ হাজার কোটি টাকা অর্জন হয়েছে। এখনো ১৬ হাজার কোটি টাকা ঘাটতি রয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, চলতি অর্থবছর শেষে চট্টগ্রাম কাস্টসের কমপক্ষে ১৭ হাজার কোটি টাকার বড় ঘাটতি থেকে যাবে। ফলে টানা পাঁচ অর্থবছর চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ হতে যাচ্ছে। চলতি অর্থবছর দেশে আমদানি পণ্যের পরিমাণ বাড়লেও উচ্চ শুল্কের পণ্য না আসায় রাজস্বে লেগেছে বড় ধাক্কা। কাস্টম বিলাসবহুল গাড়ি আমদানি থেকে সবচেয়ে বড় অঙ্কের রাজস্ব পেয়ে থাকে। সেখানে শুল্কের হার ৩০০ থেকে ৮০০ শতাংশ পর্যন্ত হয়। কিন্তু ডলার সাশ্রয়ে সরকারের কড়াকড়ি এবং ব্যাংকগুলোর এলসি বন্ধ রাখার কারণে চলতি অর্থবছর প্রায় তলানিতে নেমেছে গাড়ি ও দামি ইলেকট্রনিকস পণ্যের আমদানি। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত ৯ মাসে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আমদানির পরিমাণ আগের বছরের চেয়ে সাড়ে ১৪ শতাংশ বেড়েছে। আর ওজনের হিসাবে পণ্য এসেছে আগের চেয়ে প্রায় এক কোটি টন বেশি। কিন্তু ওই বাড়তি পণ্যের বেশির ভাগই ছিল চাল, ডাল, তেল, চিনি ও সার। যার বড় অংশই শুল্কমুক্ত কিংবা নামমাত্র শুল্কের পণ্য। ফলে খালাস হওয়া পণ্যের পরিমাণ বাড়লেও কাস্টমের কোষাগারে আশানুরূপ টাকা জমা হয়নি।

সূত্র আরো জানায়, দেশের মোট আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের প্রায় ৯৩ শতাংশ এবং কনটেইনারবাহী পণ্যের ৯৮ শতাংশ চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে পরিবাহিত হয়। কিন্তু  বিগত দেড় বছর ধরেই চট্টগ্রাম বন্দরে শ্লথ ছিলো আমদানির গতি। দেশের অন্তত সাত-আটটি ব্যাংক তীব্র তারল্য ও ডলার সংকটের কারণে এলসি খোলাই বন্ধ রেখেছিল। তার ওপর সামপ্রতিক বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতি ও ইরান-আমেরিকা উত্তেজনার প্রভাব বাজারে পড়েছে। তাছাড়া দেশের ভেতরেও সব ধরনের পণ্যের চাহিদা কমে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা নতুন করে উচ্চ শুল্কের পণ্য আমদানির ঝুঁকি নিচ্ছে না। বর্তমানে দেশের অভ্যন্তরে সামগ্রিকভাবে ভোগ্যপণ্যের চাহিদা কমেছে এবং গাড়ি বা বিলাসবহুল ইলেকট্রনিকসের মতো উচ্চশুল্কের পণ্য আমদানিতে ধস নেমেছে। ফলে জুলাই থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ১০ মাসের কোনোটিতেই চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছুঁতে পারেনি। কেবল সেপ্টেম্বর মাসে লক্ষ্যমাত্রার কিছুটা কাছাকাছি ৭ হাজার কোটি টাকা আদায় হয়েছিল। তবে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হলেও আগের অর্থবছরের ১০ মাসের তুলনায় চট্টগ্রাম কাস্টম এবার রাজস্ব আদায়ে প্রায় ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে। টাকার অঙ্কে যা আগের বছরের চেয়ে চার হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা বেশি।

এদিকে এ প্রসঙ্গে কাস্টমসের মুখপাত্র ও সহকারী কমিশনার শরীফ মোহাম্মদ আল আমিন জানান, বছরজুড়ে বাণিজ্যিক পণ্য আমদানিতে এলসি (ঋণপত্র) খোলায় কড়াকড়ি ছিল। বিশেষ করে যেসব পণ্য থেকে বেশি রাজস্ব আসে, সেগুলোর আমদানি ব্যাপকভাবে কমে গেছে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের স্বস্তির জন্য কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের শুল্কহার শূন্য বা ফ্রি করায় কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব আসেনি।