পাবনার চাটমোহরে হাশেম প্রামানিকের হত্যাকারী ভেজাল দুধ উৎপাদনকারী আঃ মমিন ও তার সহযোগিদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী। মঙ্গলবার (৯ জুন) সকাল ১১টায় উপজেলার বিলচলন ইউনিয়নের নটাবাড়িয়া বাজারে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য দেন নিহত হাশেম প্রামানিকের স্ত্রী জহুরা বেগম,তার শিশু সন্তান সজিব হোসেন ও তৈয়বা খাতুন,জাহাঙ্গীর সরকার,সিদ্দিকুর রহমান,রাজু আহমেদ,রবিউল মোল্লা প্রমুখ।
বক্তারা বলেন,আঃ মমিন বহাল তবিয়তে এলাকায় ঘুরছে। পুলিশ রাতে এসে মমিনের বাড়িতে গিয়ে দেখা করে চলে যাচ্ছে। তার দুধের ব্যবসাও চলমান রয়েছে। মানববন্ধনে বক্তারা দ্রুত আঃ মমিন ও তার সহযোগিদের গ্রেফ্তার ও বিচারের দাবি জানান।
উপজেলার বিলচলন ইউনিয়নের নটাবাড়িয়া গ্রামে জাতীয়তাবাদী কৃষকদলের বহিস্কৃত নেতা ও ভেজাল দুধ উৎপাদনকারী আব্দুল মমিন গং এর হামলা ও মারপিটে আহত হাশেম প্রামানিক গত ৪ জুন চিকিৎসাধিন অবস্থায় মারা যান। তার আরেক ভাই হাজু প্রামানিক এখন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধিন আছেন। ভেজাল দুধ উৎপাদন ও বাজারজাতের বিষয়ে স্থানীয় প্রশানসন ও এনএসআইকে তথ্য দেওয়ার অভিযোগ এনে কৃষকদল নেতা আঃ মমিন গং ঈদের পরের দিন গত ২৯ মে সকালে নটাবাড়িয়া বাজারে হাশেম প্রামানিকসহ তার স্বজনদের উপর হামলা চালিয়ে মারপিট করে। এতে হাশেম প্রামানিকসহ ৭ জন গুরুতর আহত হন। তাদেরকে চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাশেম প্রামানিক মারা যান। এ ঘটনার পর রাতেই পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে। এসময় অভিযান চালিয়ে শ্হাীন হোসেন নামের একজনকে আটক করা হয়। হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় কৃষকদল নেতা আঃ মমিনসহ ১০জনকে বিবাদী করা হয়েছে। কিন্তু এখনো গ্রেপ্তার হননি আঃ মমিন ও তার সহযোগিরা। তারা নানাভাবে বাদী ও তার স্বজনদের হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ।
ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন,ভেজাল দুধ তৈরি ও বিক্রি করার অপরাধে একাধিকবার চাটমোহর থানা পুলিশ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আঃ মমিনকে জরিমানা করেন। আঃ মমিনের পিতাসহ তার এক সহযোগিকে আটক করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। তারা এখনো জামিন পাননি। কিন্তু রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে আঃ মমিন গং ভেজাল দুধ উৎপাদনের কারবার অব্যাহত রাখেন।
চাটমোহর থানার অফিসার ইনচার্জ অলিউর রহমান জানান,মামলা হওয়ার পর একজনকে আটক করা হয়েছে। অন্যান্য আসামিদেরও আটক করার জন্য অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।