জনপ্রশাসনেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব

৮ লাখ ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকার ছায়া বাজেট দিল জামায়াত

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ৯ জুন, ২০২৬, ০৪:৫৭ পিএম
৮ লাখ ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকার ছায়া বাজেট দিল জামায়াত

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৮ লাখ ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকার বিকল্প জাতীয় বা ‘ছায়া বাজেট’ প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। প্রস্তাবিত বাজেটে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ রাখা হয়েছে জনপ্রশাসন খাতে। এর পরেই গুরুত্ব পেয়েছে শিক্ষা ও প্রযুক্তি এবং অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের সুদ পরিশোধ। একই সঙ্গে কৃষি, স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা ও যোগাযোগ অবকাঠামো খাতেও বড় অঙ্কের বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (০৯ জুন) রাজধানীর মগবাজারের আল ফালাহ মিলনায়তনে আয়োজিত ‘ছায়া বাজেট প্রস্তাবনা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে বাজেটটি উপস্থাপন করেন জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা ১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলাম খান মিলন। দলটির পক্ষ থেকে এটিকে জনমুখী ও বিকল্প অর্থনৈতিক পরিকল্পনা হিসেবে তুলে ধরা হয়।

প্রস্তাবিত বাজেট বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট বাজেটের ২৪ দশমিক ০৯ শতাংশ, অর্থাৎ ২ লাখ ২ হাজার ২৪৫ কোটি টাকা জনপ্রশাসন খাতে বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১ লাখ ২৫ হাজার ৫৭৫ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের ১৪ দশমিক ৯৬ শতাংশ।

ঋণের সুদ পরিশোধের জন্যও বড় অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এ খাতে প্রস্তাবিত বরাদ্দ ১ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের ১৫ দশমিক ১৯ শতাংশ। দলটির বাজেট প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, ঋণের দায় সামাল দেওয়া বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নে পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে ৬৫ হাজার ৩৪০ কোটি টাকা বরাদ্দের রূপরেখা দেওয়া হয়েছে। খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষি উৎপাদন জোরদারে কৃষি খাতে ৫১ হাজার ৬৭০ কোটি টাকা এবং দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সহায়তায় সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণ খাতে ৪৮ হাজার ১৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

জনস্বাস্থ্য খাতে ৪৫ হাজার ২৪০ কোটি টাকা এবং স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন খাতে ৪৫ হাজার ২২০ কোটি টাকা বরাদ্দের সুপারিশ করেছে দলটি। এছাড়া প্রতিরক্ষা খাতে ৪৩ হাজার ৪৬২ কোটি টাকা, জনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা খাতে ৩৪ হাজার ৪৫৭ কোটি টাকা এবং জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে ২৪ হাজার ৯৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

ছায়া বাজেট উপস্থাপন অনুষ্ঠানে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা কোনো দলের জন্য বাজেট দিচ্ছি না, এই বাজেট দেশের মানুষের জন্য।” তিনি মনে করেন, সততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা গেলে এমন বাজেট বাস্তবায়ন করা সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, “আমাদের ফিসকাল ইয়ার ক্যালেন্ডার বছরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা উচিত।” তার ভাষ্য, অর্থবছরের শেষ দিকে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে তাড়াহুড়ো করলে জনগণ কাঙ্ক্ষিত সুফল পায় না।

রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর এই ছায়া বাজেট মূল জাতীয় বাজেটের বিকল্প প্রস্তাবনা হিসেবে এসেছে। এতে প্রশাসনিক ব্যয়, শিক্ষা, ঋণ ব্যবস্থাপনা এবং সামাজিক সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে