কলাপাড়ায় শিশু শিক্ষার্থীদের শুদ্ধভাবে জাতীয় সঙ্গীত শেখার কার্যক্রম শুরু

এফএনএস (কুয়াকাটা, পটুয়াখালী) : | প্রকাশ: ৯ জুন, ২০২৬, ০৫:০৫ পিএম
কলাপাড়ায় শিশু শিক্ষার্থীদের শুদ্ধভাবে জাতীয় সঙ্গীত শেখার কার্যক্রম শুরু

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় শিশু শিক্ষার্থীদের শুদ্ধভাবে জাতীয় সঙ্গীত শেখানোর কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সোমবার থেকে জাতীয় সঙ্গীত শুদ্ধভাবে শেখার এই কার্যক্রম শুরু করেন কলাপাড়ার ইউএনও কাউছার হামিদ। প্রথম পর্যায়ে ১০ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ১২ জন করে মোট ১২০ জন শিশু শিক্ষার্থী জাতীয় সঙ্গীত শিখন কার্যক্রমে অংশ নেয়। উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এই প্রশংসনীয় কার্যক্রম চালু করা হয়। সকল শিক্ষার্থীকে পর্যায় ক্রমে এই শিখন কার্যক্রমের আওতায় নিয়ে আসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শুদ্ধ করে জাতীয় সঙ্গীত শিখন কার্যক্রমে প্রশিক্ষক ছিলেন কলাপাড়া শিল্পকলা একাডেমির প্রশিক্ষক সঙ্গীত শিক্ষক মোস্তফা জামান সুজন। এসময় উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মো: মনিরুজ্জামান খানসহ সরকারি কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

ইউএনও কাউছার হামিদ জানান, জাতীয় সঙ্গীত শেখা শুধু একটি গান মুখস্থ করা নয়; এটি একটি দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি, মূল্যবোধ এবং জাতীয় পরিচয়ের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের একটি উপায়। 

জাতীয় সঙ্গীত শেখার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ‘জাতীয় সঙ্গীত দেশের প্রতি ভালোবাসা, শ্রদ্ধা এবং দায়িত্ববোধ জাগিয়ে তোলে। যখন মানুষ একসঙ্গে জাতীয় সঙ্গীত গায়, তখন তারা নিজেদের একটি বৃহত্তর জাতির অংশ হিসেবে অনুভব করে। জাতীয় সঙ্গীতের পেছনে সাধারণত একটি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট থাকে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে গানটি দেশের প্রকৃতি, মাটি ও মানুষের প্রতি গভীর ভালোবাসার প্রকাশ। এটি আমাদের সাংস্কৃতিক শিকড়ের সঙ্গে যুক্ত করে। জাতীয় সঙ্গীত একটি রাষ্ট্রের মর্যাদার বিষয়। ভুল সুর, ভুল উচ্চারণ বা ভুল কথা ব্যবহারে মূল রচনার সৌন্দর্য ও অর্থ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। শুদ্ধভাবে জাতীয় সংগীত পাঠ এর সঠিক রূপ বজায় রাখতে সহায়তা করে।’

 তাই শিশু থেকে শুরু করে সকল নাগরিককে শুদ্ধভাবে জাতীয় সঙ্গীত গাইতে পারা প্রয়োজন।

সঙ্গীত শিক্ষক মোস্তফা জামান সুজন বলেন, ‘ আমাদের ভাষা, ধর্ম, অঞ্চল বা সামাজিক অবস্থান ভিন্ন হলেও জাতীয় সঙ্গীত সবাইকে একত্রিত করে। জাতীয় অনুষ্ঠান, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা বা আন্তর্জাতিক মঞ্চে এটি জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবে কাজ করে। শিশু-কিশোরদের মধ্যে শৃঙ্খলা, সম্মান, দায়িত্ববোধ এবং নাগরিক চেতনা গড়ে তুলতে জাতীয় সঙ্গীত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তিনি আরও বলেন, ‘শুদ্ধভাবে শেখার ক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে, গানের প্রতিটি শব্দ স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করা। মূল কথা ও বানান সঠিকভাবে জানা। নির্ধারিত সুর ও তালের প্রতি মনোযোগ দেওয়া। কোথায় শ্বাস নিতে হবে এবং কোথায় শব্দ টানতে হবে তা অনুশীলন করা। এজন্য নির্ভরযোগ্য শিক্ষক, সঙ্গীত প্রশিক্ষক বা সরকারি/প্রামাণ্য উৎস থেকে জাতীয় সঙ্গীত শেখা দরকার। শুদ্ধভাবে শেখা জরুরি, কারণ এর মাধ্যমে জাতীয় সঙ্গীতের মর্যাদা, সৌন্দর্য ও মূল রূপ অক্ষুণ্ন থাকে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে