মৌচাকে বিএনপি নেতা বিল্লাল হত্যা, আটক ২; তদন্তে স্থানীয় বিরোধের ইঙ্গিত

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ৯ জুন, ২০২৬, ০৬:০৭ পিএম
মৌচাকে বিএনপি নেতা বিল্লাল হত্যা, আটক ২; তদন্তে স্থানীয় বিরোধের ইঙ্গিত

রাজধানীর মৌচাকে বিএনপি নেতা ও রমনা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক বিল্লাল হোসেন তালুকদার হত্যাকাণ্ডে দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে স্থানীয় বিরোধ ও তর্কাতর্কির জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। একই ঘটনায় জড়িত অন্যদেরও শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

মঙ্গলবার (০৯ জুন) ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) এন এম নাসিরুদ্দীন বলেন, রিয়াজুল ইসলাম ও আল আমিন মাহিন নামে দুইজনকে মুন্সিগঞ্জ ও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে আটক করা হয়েছে। তিনি জানান, “প্রাথমিক তদন্তে স্থানীয় যুবদল নেতা দিদারুল ইসলাম ও তার অনুসারীদের সঙ্গে তর্কাতর্কির একপর্যায়ে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয়কে গুরুত্ব দিয়ে নয়, অপরাধে সম্পৃক্ততার ভিত্তিতেই তদন্ত চলছে।”

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার পর রমনা থানায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। রমনা বিভাগের উপকমিশনার শেখ জাহিদুল ইসলাম জানান, আটক আল আমিন ১৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং রিয়াজুল ওই ওয়ার্ডের একজন কর্মী। এ ঘটনায় আরও যাদের সম্পৃক্ততা রয়েছে, তাদের আটকের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে নিহত বিল্লালের স্বজনরা জানান, সোমবার (০৮ জুন) সন্ধ্যায় মৌচাকের আনারকলি মার্কেট এলাকায় তার ভাগ্নে মোবারক হোসেন আকাশকে কয়েকজন মারধর করেন। খবর পেয়ে বিষয়টি মীমাংসা করতে ঘটনাস্থলে যান বিল্লাল হোসেন তালুকদার। সেখানে যুবদলের রমনা থানার বর্তমান আহ্বায়ক দিদারুল ইসলাম বাবু ও সাধারণ সম্পাদক লুৎফরের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে হামলার ঘটনায় বিল্লাল গুরুতর আহত হন।

গুরুতর অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে রাত ৯টা ২০ মিনিটের দিকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। বিল্লাল হোসেন মালিবাগ বাগানবাড়ি এলাকার বাসিন্দা ছিলেন এবং বালু ও সিমেন্ট ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

মঙ্গলবার (০৯ জুন) দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে তার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। পরে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। নিহতের বড় ছেলে হৃদয় হোসেন তালুকদার জানান, প্রথম জানাজা বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত হওয়ার পর মরদেহ শরীয়তপুরের নড়িয়ায় নেওয়া হবে এবং সেখানে দাফন করা হবে।

এদিকে হত্যাকাণ্ডের পর রাজনৈতিক অঙ্গনেও তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ঘটনার অভিযোগ ওঠা রমনা থানা যুবদলের আহ্বায়ক দিদারুল ইসলাম বাবুকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে রমনা থানা যুবদলের কমিটিও বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছে বলে দলীয় বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

ডিএমপি বলছে, হত্যাকাণ্ডের পেছনের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। প্রাথমিকভাবে স্থানীয় বিরোধের তথ্য মিললেও ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে