লিবিয়ায় অপহৃত আলমগীর, আড়াই মাস পর মৃত্যুর খবর

এফএনএস (নজরুল ইসলাম; মান্দা, নওগাঁ) : | প্রকাশ: ৯ জুন, ২০২৬, ০৬:১৬ পিএম
লিবিয়ায় অপহৃত আলমগীর, আড়াই মাস পর মৃত্যুর খবর

নওগাঁর মান্দা উপজেলার নুরুল্লাবাদ গ্রামের প্রবাসী যুবক আলমগীর হোসেন (৪৫) লিবিয়ায় অপহরণের শিকার হওয়ার আড়াই মাস পর তার মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। পরিবারের দাবি, গত ২৮ মার্চ সন্ধ্যার পর কর্মস্থল থেকে পুলিশের পোষাক পরিহিত একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী তাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এরপর থেকে তার কোনো খোঁজখবর পাওয়া যায়নি।

প্রবাসী আলমগীর হোসেন উপজেলার নুরুল্লাবাদ গ্রামের মৃত দিদার বক্স খাঁনের ছেলে। তিনি দীর্ঘ সাত বছর ধরে লিবিয়ায় শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

নিহত আলমগীরের ভাই লিবিয়াপ্রবাসী জিল্লুর রহমান জানান, ভাই আলমগীর হোসেন ত্রিপোলীর তাজুয়ারা ডিসি পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত ২৮ মার্চ মাগরিবের নামাজের পর ডিউটিরত অবস্থায় পুলিশের পোষাকে একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সদস্যরা মাইক্রোবাসে তাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এরপর তাকে উদ্ধারের জন্য লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও কোনো ইতিবাচক অগ্রগতি হয়নি। সন্ত্রাসীদের ওই আস্তানায় আরও ৩১ বাংলাদেশিকে জিম্মি করা হয়েছিল।  

তিনি আরও বলেন, ‘ওই আস্তানা থেকে মুক্তিপণ দিয়ে ৫জন মুক্তি পান। আমার ভাইয়ের কাছেও ২৫ লাখ টাকা দাবী করা হয়েছিল। সে টাকা দিতে অস্বীকার করায় অন্তত এক মাস আগে তাকে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে। সোমবার (৮ জুন) দুতাবাসের মাধ্যমে উদ্ধার হওয়া জিম্মিদের কাছ থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের মোবাইলে ধারণ করা ছবি দেখে সেটি ভাই আলমগীর হোসেন বলে শনাক্ত করা হয়। তার মরদেহ উদ্ধার এবং দেশে পাঠানোর জন্য দূতাবাসের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করা হচ্ছে।’

নিহত আলমগীরের স্ত্রী শাহিনা আক্তার বলেন, ‘আমার স্বামীই ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। ২৮ মার্চ কাজে যাওয়ার আগে তার সঙ্গে শেষবারের মতো মোবাইল ফোনে কথা হয়েছিল। এরপর থেকে তার সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ হয়নি। কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আমাদের কাছে মুক্তিপণও দাবি করেনি। সোমবার রাতে তার মৃত্যুর সংবাদ পেয়েছি।’

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্বামীর মরদেহ দ্রুত উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানান।

এদিকে আলমগীর হোসেনের মৃত্যুর খবরে নুরুল্লাবাদ গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজন ও এলাকাবাসী সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর এবং বাংলাদেশ দূতাবাসের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে