দক্ষিণ কোরিয়া বাংলাদেশি পণ্যের শুল্ক সুবিধা অব্যাহত রাখার অনুরোধ রাষ্ট্রপতির

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ৯ জুন, ২০২৬, ০৬:৩৩ পিএম
দক্ষিণ কোরিয়া বাংলাদেশি পণ্যের শুল্ক সুবিধা অব্যাহত রাখার অনুরোধ রাষ্ট্রপতির

বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে নতুন উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। একই সঙ্গে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের পরও কোরিয়ার বাজারে ৯৫ শতাংশ বাংলাদেশি পণ্যের শুল্ক ও কোটামুক্ত সুবিধা অন্তত আরও চার বছর বহাল রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (৯ জুন) বঙ্গভবনে বাংলাদেশে নবনিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত কিম জি জুনের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন। এদিন সকালে দক্ষিণ কোরিয়া ও মরক্কোর নবনিযুক্ত আবাসিক রাষ্ট্রদূতরা রাষ্ট্রপতির কাছে তাদের পরিচয়পত্র পেশ করেন। বঙ্গভবনে পৌঁছালে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের একটি চৌকস দল তাদের গার্ড অব অনার প্রদান করে।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি বলেন, দক্ষিণ কোরিয়া বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ বিনিয়োগকারী দেশ। বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্যামসাং, হুন্দাইসহ প্রায় শতাধিক কোরিয়ান প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রামের কোরিয়ান ইপিজেড এবং দেশের বিভিন্ন রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে বিনিয়োগ ও ব্যবসা পরিচালনা করছে।

তিনি বলেন, "বর্তমানে দেশে অত্যন্ত চমৎকার ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ বিরাজ করছে।" বাংলাদেশের হালকা প্রকৌশল, ইলেকট্রনিকস, জাহাজ নির্মাণ, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, তথ্যপ্রযুক্তি, তৈরি পোশাক ও অবকাঠামো খাতে কোরিয়ান বিনিয়োগ আরও বাড়াতে নতুন রাষ্ট্রদূতের প্রতি আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।

দুই দেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট (সেপা) স্বাক্ষরের অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে দক্ষিণ কোরিয়ার সহযোগিতার প্রশংসা করে তিনি দেশটির এমপ্লয়মেন্ট পারমিট সিস্টেমের আওতায় জাহাজ নির্মাণ ও আইসিটিসহ বিভিন্ন শিল্পে আরও বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগে সহযোগিতা কামনা করেন।

জবাবে দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত কিম জি জুন বলেন, তার দেশ বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে আন্তরিকভাবে আগ্রহী। ব্যবসা, শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং অন্যান্য খাতে সহযোগিতা বাড়াতে তিনি কাজ করবেন বলেও প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

এর আগে মরক্কোর রাষ্ট্রদূত লেল্লা বুথাইনা এল কার্দুদি এল কুলালির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও মরক্কোর মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ক অত্যন্ত চমৎকার ও অগ্রসরমান। ১৯৮১ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মরক্কো সফরের কথা স্মরণ করে রাবাতে তার নামে একটি সড়কের নামকরণ করায় সে দেশের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান রাষ্ট্রপতি।

মরক্কোর রাষ্ট্রদূতের কাছে স্বাস্থ্য, কৃষি, অবকাঠামো নির্মাণ, তৈরি পোশাক, বস্ত্র ও আইসিটিসহ বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশের দক্ষ ও আধা দক্ষ জনশক্তি নিয়োগের আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ প্রতিনিধিদলের সফর বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সাক্ষাৎ শেষে নবনিযুক্ত দুই রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্রপতির সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন। এ সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে