সীতাকুণ্ডে আ.লীগের চোরাগোপ্তা নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে মশাল মিছিলের গর্জন

এফএনএস (জহিরুল ইসলাম; সীতাকুণ্ড, চট্টগ্রাম) : | প্রকাশ: ৯ জুন, ২০২৬, ০৭:২৯ পিএম
সীতাকুণ্ডে আ.লীগের চোরাগোপ্তা নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে মশাল মিছিলের গর্জন

নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের দেশবিরোধী চক্রান্ত এবং দেশব্যাপী চোরাগোপ্তা হামলা ও নৈরাজ্য সৃষ্টির অপচেষ্টার প্রতিবাদে এক অভূতপূর্ব ও বিশাল বিক্ষোভ মশাল মিছিলে কেঁপে উঠেছে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড। অন্ধকার চিরে হাজার হাজার প্রজ্জ্বলিত মশাল আর স্বৈরাচারবিরোধী স্লোগানের তীব্র গর্জনে রাজপথ এক উত্তাল জনসমুদ্রে রূপ নেয়।

চট্টগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মজলুম জননেতা আসলাম চৌধুরীর সুনির্দিষ্ট নির্দেশনায় সোমবার রাতে সীতাকুণ্ড উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়ন বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে এই বিশাল মশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিল থেকে দলটির সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা হুঙ্কার দিয়ে বলেন, মজলুম জননেতা আসলাম ভাইয়ের স্পষ্ট ঘোষণা, সীতাকুণ্ডের পবিত্র মাটিতে কোনো বিশৃঙ্খলাকারী ও সন্ত্রাসীর ঠাঁই হবে না।

সোনাইছড়ি ইউনিয়নের ঐতিহাসিক বার-আউলিয়া এলাকা থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ মিছিলে মুহূর্তের মধ্যেই আপামর জনতা ও দলীয় নেতাকর্মীদের ঢল নামে। হাজার হাজার মশাল হাতে নিয়ে জাগ্রত জনতা পুরো এলাকার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। এ সময় পুরো সীতাকুণ্ডের আকাশ-বাতাস প্রকম্পিত করে মিছিলকারীরা পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচারী শাসক ও তাদের দোসরদের উদ্দেশ্যে তীব্র ক্ষোভে স্লোগান তোলেন, গোপালগঞ্জের গোলাপী, আর কতকাল জ্বালাবি। বিগত ফ্যাসিবাদের জুলুম-নির্যাতনের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের এই পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ পুরো মিছিলটিকে আরও বেগবান ও শক্তিশালী করে তোলে।

মশাল মিছিল শেষে বার-আউলিয়া বাজারে এক বিশাল প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে সোনাইছড়ি ইউনিয়ন বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

নেতৃবৃন্দ তাদের বক্তব্যে কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ ও তাদের নিষিদ্ধ অঙ্গ সংগঠনগুলো চোরাগোপ্তা হামলা ও অপপ্রচার চালিয়ে দেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও গণতন্ত্র বিনষ্টের অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। কিন্তু জননেতা আসলাম চৌধুরীর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে সীতাকুণ্ডের মাটিতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না। ফ্যাসিস্ট হাসিনার দোসররা যদি আবারও কোথাও সাধারণ মানুষের জানমালের ক্ষতি করার চেষ্টা করে, তবে তৃণমূলের জাগ্রত জনতাকে সাথে নিয়ে রাজপথেই তার দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে।

অনুরূপভাবে স্বৈরাচারের এই দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র রুখে দিতে সীতাকুণ্ড উপজেলার সলিমপুর, ভাটিয়ারী , কুমিরা, মুরাদপুর, বাড়বকুণ্ড ও বারৈয়াঢালা ইউনিয়ন সহ প্রতিটি ইউনিয়নে এবং পৌর সদরেও বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। যা পুরো উপজেলায় দলটির সাংগঠনিক শক্তিমত্তা ও ব্যাপক জনসমর্থনের বহিঃপ্রকাশ ঘটায়।

পরিশেষে বক্তারা দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অর্জিত গণতন্ত্রকে সমুন্নত রাখতে এবং যেকোনো অপশক্তিকে রুখে দিতে দলীয় নেতাকর্মীসহ আপামর জনসাধারণকে সর্বদা ঐক্যবদ্ধ ও রাজপথে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়া এই বিশাল প্রতিবাদী কর্মসূচি স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন ও উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে