কলারোয়া সীমান্তে কঠোর সতর্কাবস্থায় বিজিবি ও স্থানীয় জনতা

এফএনএস (এস.এম. শহিদুল ইসলাম; সাতক্ষীরা) : | প্রকাশ: ৯ জুন, ২০২৬, ০৭:৩৪ পিএম
কলারোয়া সীমান্তে কঠোর সতর্কাবস্থায় বিজিবি ও স্থানীয় জনতা

ভারত থেকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ (পুশইন) ঠেকাতে সাতক্ষীরার কলারোয়া সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) পাশাপাশি সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন সাধারণ মানুষ। কিছু কিছু সীমান্ত এলাকায় বিজিবি ও এলাকাবাসীর যৌথ পাহারার খবরও পাওয়া গেছে।

সম্প্রতি ভারতীয় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয় যে, কলারোয়া সীমান্তের ওপারে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার স্বরূপনগর থানার হাকিমপুরসহ কয়েকটি সীমান্তে অবৈধভাবে বাংলাদেশে পাঠানোর জন্য বহু নারী-পুরুষকে জড়ো করা হয়েছে। এই খবরের পর থেকেই কলারোয়া সীমান্তজুড়ে কঠোর টহল, নজরদারি ও অবস্থান জোরদার করেছে বিজিবি। এই কার্যক্রমে বিভিন্নভাবে বিজিবিকে সহায়তা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কলারোয়া উপজেলার ১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সীমান্ত এলাকাটি বছরের পর বছর ধরে মাদক ও চোরাচালানের নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। এর সঙ্গে সম্প্রতি যোগ হয়েছে অবৈধ অনুপ্রবেশের শঙ্কা। ফলে বিজিবিসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী, উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন স্থলভাগ ও নদী দ্বারা ভারতের সীমান্ত থেকে বিভক্ত। এর মধ্যে কেঁড়াগাছি ইউনিয়নের সিংহভাগ ও সোনাবাড়িয়া ইউনিয়নের পুরো সীমান্ত এলাকাটি সোনাই নদী দ্বারা ভারত থেকে আলাদা। অন্যদিকে চন্দনপুর ইউনিয়নের কিছু অংশ ইছামতি নদী এবং বাকি অংশ স্থল সীমান্ত। নদী সীমান্তের চেয়ে স্থলভাগ দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশের সম্ভাবনা বেশি থাকায় চন্দনপুর ইউনিয়নের হিজলদী, সুলতানপুর ও গোয়ালপাড়া স্থল সীমান্তে বিজিবির টহল ও তদারকি ব্যাপক হারে জোরদার করা হয়েছে।

বিজিবির সুলতানপুর বিওপির কমান্ডার নায়েক সুবেদার কামরুজ্জামান জানান, বর্তমানে এই বিওপির অধীনে থাকা সাড়ে চার কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ করতে সার্বক্ষণিক কঠোর নজরদারি অব্যাহত রাখা হয়েছে।

সুলতানপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য হুমায়ুন কবীর বলেন, "সীমান্ত এলাকায় হ্যান্ডমাইকে সতর্কবার্তা প্রচার করা হচ্ছে। রাতে টর্চলাইটের আলো জ্বালিয়ে বিজিবি ও এলাকাবাসী যৌথভাবে পাহারা দিচ্ছেন। অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সবাই কঠোর অবস্থানে আছেন।"

সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের মিডিয়া ইনচার্জ সার্জেন্ট মিলন জানান, এখন পর্যন্ত সাতক্ষীরা সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ করতে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে