পদ্মার চরে বালুমহলের আধিপত্য-স্পিডবোটে গুলিবিদ্ধ যুবকের লাশ

এফএনএস (এ.কে. আজাদ সেন্টু; লালপুর, নাটোর) : | প্রকাশ: ৯ জুন, ২০২৬, ০৭:৪০ পিএম
পদ্মার চরে বালুমহলের আধিপত্য-স্পিডবোটে গুলিবিদ্ধ যুবকের লাশ

নাটোরের লালপুর উপজেলার পদ্মা নদীর চরাঞ্চলে একটি স্পিডবোট থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বালুমহলের নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই পক্ষের সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনায় তিনি নিহত হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় পদ্মার চরাঞ্চলজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (৯ জুন) রাত ১২টা থেকে ভোর ৬টার মধ্যে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার হবির চর এলাকায় বালুমহল নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বেলাল ও কাকন গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত একজন গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাকে বহনকারী একটি স্পিডবোট লালপুর উপজেলার চরজাজিরা মৌজার পদ্মা নদীর তীরে ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা।

ঘটনার খবর পেয়ে লালপুর থানা পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা হবির চর থেকে শুরু করে লালপুরের বিভিন্ন নদীতীর ও চরাঞ্চলে ব্যাপক অনুসন্ধান অভিযান চালান। একপর্যায়ে মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে চরজাজিরা এলাকায় পদ্মা নদীর তীরে একটি পরিত্যক্ত স্পিডবোটের ভেতর থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত ব্যক্তি হলেন আজিজুল হক ঝড়ু (৩৫)। তিনি নাটোর জেলার বাগাতিপাড়া উপজেলার পাবনাপাড়া গ্রামের আব্দুল শেখ ও হাসিনা বেগমের ছেলে।

পুলিশ জানায়, নিহতের বাম চোখের উপরের অংশে গুলির আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং গুলি মাথা ভেদ করে বেরিয়ে গেছে। স্পিডবোটের ভেতরেই তিনি মারা যান বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি সবুজ-নীল রঙের স্পিডবোটও জব্দ করা হয়েছে।

মরদেহ উদ্ধারের পর সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম শুরু করেছে লক্ষীকুন্ডা নৌ পুলিশ ফাঁড়ি।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন লক্ষীকুন্ডা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক খন্দকার শফিকুল ইসলাম, লালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শফিকুল ইসলাম এবং থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) এস এম রিয়াজুল হাসান।

লালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে নিহত আজিজুল হক ঝড়ু চারঘাট এলাকার কাকন গ্রুপের নিয়ন্ত্রিত একটি বালুর পয়েন্টে কাজ করতেন। বালুমহলের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বাঘা উপজেলার বেলাল গ্রুপের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তবে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করে জড়িতদের  গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে