মরটসাইকেলে স্ত্রীকে নিয়ে যাচ্ছিলেন উপজেলা ছাত্রদল সভাপতি আবদুল্লাহ আল ফাহাদ। পথে যানজটের কারণে আটকে যায় তার মটরসাইকেল। এতে ধৈয্য হারিয়ে তার সামনে থাকা ব্যাক্তিগত গাড়িকে (প্রাইভেট কার) ধাক্কা দিতে থাকেন। এক পযায়ে গাড়ির চালক বার বার ধাক্কা দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে দুইজনের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এঘটনার জেরে দলবল নিয়ে গাড়ি আটক করে দফায় দফায় গাড়ির চালককে মারধর করেন ছাত্রদল সভাপতি ও তার লোকজন।
মঙ্গলবার (৯জুন) সোয়া ১২টার দিকে পৌর শহরের পলি ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের সামনের সড়কে এ ঘটনা ঘটে।কয়েক দফায় মারধর শেষ গাড়ির চাবি ছিনিয়ে নিয়ে অন্য চালক দিয়ে গাড়ি নিয়ে যায় ছাত্রদল সভাপতির লোকজন।
প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন জানান, বাউফল ু কালাইয়া সড়কের একটি কালো প্রাইভেট কার কালাইয়া যাচ্ছিলেন। যানজটের কারণে হাসপাতালের রোডের পলি ডায়াগনষ্টিকের সামনে গাড়িটি আটকে যায়। ওই গাড়ির পিছনে ছিল উপজেলা ছাত্রদল সভাপতি ফাহাদের রয়েল ইনফিল্ড ক্লাসিক মডেলের কালো রঙেরে একটি গাড়ি। যানজটের আটকে গিয়ে বার বার সামনের প্রাইভেট কারকে ধাক্কা দিতে থাকেন ফাহাদ। একপযায ছাত্রদল সভাপতি পাশ কাটিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন গাড়ির চালক গাড়ির দরজা খুলে ছাত্রদল সভাপতির হাত ধরে ধাক্কা দেওয়ার কারণ জানতে চান। এতে উত্তেজিত হয়ে উঠেন ছাত্রদল সভাপতি ফাহাদ। তার স্ত্রীক অদূরে নামিয়ে দিয়ে এসে প্রাইভেট কার রাস্তার ওপর আটকে রাখেন। কিছু সময়ের মধ্যে তার লোকজন এসে প্রাইভেট কারের চালক মো. শাহীনকে মারধর শুরু করেন। স্থানীয়রা চালককে উদ্ধার করে পাশের একটি হোটেলে নিয়ে গেলে সেখানে গিয়েও তাকে মারধর করেন ছাত্রদল সভাপতি। স্থানীয়রা ওই চালককে রক্ষা করতে গেলে তাদেরও ওপরও চড়াও হন ছাত্রদল সভাপতি ও তার সঙ্গপাঙ্গরা। একপর্যায়ে গাড়ির চালক শাহিন মিয়ার কাছ থেকে গাড়ির চাবি ছিনিয়ে নিয়ে অন্য এক চালক দিয়ে গাড়িটি নিয়ে যান। বিষয়টি মিমাংশা করার জন্য স্থানীয় বিএনপি নেতারা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
গাড়ির মালিক মালিক কালাইয়া বন্দর হাট ইজারাদার ও হিসাববিদ মো. রাজিব আহসান বাবু বলেন, প্রায় ৫ কোটি টাকা ইজারা মূল্য দিয়ে আমি কালাইয়া হাটের ইজারা নিয়েছি। ইজারা নেওয়ার পর থেকে উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি ফাহাদ চাদা দাবি করে আসছিলেন। চাদার টাকা না দেওয়ায় পরিকল্পিতভাবে আমার গাড়িতে ধাক্কা দিয়ে জামেলা সৃষ্টি করে। আমার চালককে বেধরক মারধর করে প্রায় ৭৫ লাখ টাকা সহ আমার গাড়ি ছিনিয়ে নেয়। পুলিশ আমার গাড়ির চাবি উদ্ধার করে দিলেও গাড়িতে থাকা টাকা, ব্যাংকের চেক সহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাওয়া যায়নি।
টাকাসহ গাড়ি ছিনতাই ও মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে ছাত্রদল নেতা আবদুল্লাহ আল ফাহাদ বলেন, তিনি তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে বাউফল সরকারি কলেজ থেকে কালাইয়া যাওয়ার পথে সৌদিয়া বিপণিবিতানের সামনে পৌঁছালে যানজটে পড়েন। সামনে কালো রঙের একটি গাড়ি ছিল। এ কারণে তিনি যেতে পারছিলেন না। একপর্যায়ে গাড়িটির পাশ দিয়ে তিনি যাচ্ছিলেন,তখন কালোগাড়িটির চালক তাঁর (ফাহাদ) হাত ধরে টান দিয়ে ধাক্কা দেওয়ার কারণ জানতে চান। তবে তিনি (ফাহাদ) কারো গাড়িতে ধাক্কা দেননি। টাকাসহ গাড়ি ছিনতাইয়ের অভিযোগ অস্বীকার করে
ফাহাদ আরও বলেন,তাঁকে (ফাহাদ) ও তাঁর স্ত্রীকে হত্যার উদ্দেশ্যে চলন— মোটরসাইকেল থেকে তাঁর হাত ধরে টান দেওয়া হয়েছে।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন,‘লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’