রংপুর আদালত চত্বরে হামলা, ভাঙচুর ও আইনজীবীদের ওপর আক্রমণের অভিযোগে বাবা-ছেলে দুজনকে আটক করেছে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি থানা। এ ঘটনায় থানায় একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।
আটক দুজন হলেন আতিয়ার রহমান (৫৫) ও তার ছেলে জোবায়দুর রহমান জাবেদ (২৮)। তারা নগরীর নিউ আদর্শপাড়া এলাকার বাসিন্দা।
মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেলে রংপুর জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনে এ ঘটনা ঘটে।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের এডভোকেট ক্লার্ক সমিতির নির্বাচন উপলক্ষে ভোটার নবায়ন ও নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্যে রংপুর জেলা আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে মাইকিং কার্যক্রম চলছিল। দুপুর ১২টার দিকে আদালত এলাকায় প্রচারকাজ পরিচালনার সময় অভিযুক্তরা আইনজীবী সমিতির কম্পিউটার অপারেটর মোকাদ্দেস ও এমএলএসএস রাশেদের কাছ থেকে মাইক ছিনিয়ে নিয়ে নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না বলে হুমকি দেন। প্রতিবাদ করলে তারা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে মাইক কেড়ে নেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়।
পরে বিষয়টি জানতে পেরে এডভোকেট ক্লার্ক সমিতির প্রধান নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট এ কে এম হারুন উর রশীদ আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে অবহিত করেন।
এরপর বিকেল ৩টার দিকে সমিতির সভাপতি অভিযুক্তদের নিজের সেরেস্তায় ডেকে পাঠান।
এজাহার অনুযায়ী, সেখানে উপস্থিত হয়ে অভিযুক্তরা উত্তেজিত আচরণ করেন এবং উপস্থিত আইনজীবীদের উদ্দেশে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা কাঠের চেয়ার দিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট এ কে এম হারুন উর রশীদ এবং রংপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি শাহেদ কামাল ইবনে খতিবের ওপর হামলা চালান। এতে তারা আহত হন।
এ সময় আইনজীবী সমিতির সভাপতির পরিহিত শার্ট ছিঁড়ে যায় এবং সমিতির চেয়ার-টেবিলসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়। ঘটনায় আদালত চত্বরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং বিচারপ্রার্থী ও সাধারণ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছোটাছুটি শুরু করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরবর্তীতে আইনজীবী সমিতির অন্যান্য সদস্য ও উপস্থিত জনতা এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। অভিযুক্তদের আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দের উদ্যোগ নেওয়া হলে তারাও বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিতে থাকেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় রংপুর জেলা আইনজীবী সমিতির কার্যকরী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট মো. শহীদুল ইসলাম স্বপন সমিতির নির্দেশক্রমে কোতোয়ালি মেট্রোপলিটন থানায় এজাহার দায়ের করেন।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাজমুল কাদের বলেন, “রংপুর জেলা আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে একটি এজাহার পাওয়া গেছে। ঘটনায় অভিযুক্ত আতিয়ার রহমান ও তার ছেলে জোবায়দুর রহমান জাবেদকে আটক করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘটনাটি আদালতপাড়া ও আইনজীবী মহলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আদালত চত্বরে এমন হামলার ঘটনায় আইনজীবীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।