বাজারে স্বস্তি মিলছেনা ভোজ্য তেল, ডিম ও সবজিতে

এফএনএস (প্রতিবেদক): | প্রকাশ: ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৮:১২ পিএম
বাজারে স্বস্তি মিলছেনা ভোজ্য তেল, ডিম ও সবজিতে

রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজারে সবজির দামে এখনও স্বস্তি মিলেনি। সরকারিভাবে দাম বাড়ানোর ঘোষণা এলেও বাজারে এর ইতিবাচক কোনো প্রভাব দেখা যায়নি; বরং খুচরা দোকানে তেলের জন্য হাহাকার এখনো কাটেনি। 

বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৫ টাকা বাড়ানোর অনুমোদন দেওয়ার পরও বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক করেনি বিপণনকারী কোম্পানিগুলো। বিশ্ববাজারে মূল্যবৃদ্ধির কারণে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তারা তেলের সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে।

আজ শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বেশ কিছু কাঁচাবাজার ঘুরে এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে বাজার পরিস্থিতির এমন চিত্র পাওয়া গেছে। সরকারিভাবে দাম বাড়ানোর ঘোষণা এলেও বাজারে এর ইতিবাচক কোনো প্রভাব দেখা যায়নি; বরং খুচরা দোকানে তেলের জন্য হাহাকার এখনো কাটেনি।

সংশ্লিষ্টদের সিদ্ধান্তের পর বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারপ্রতি ১৯৯ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। দাম বাড়ার পরও সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় অনেক জায়গায় ব্যবসায়ীরা আগের স্টকের তেলও নতুন দরে বা নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করছেন।

লালবাগ বাজারের খুচরা বিক্রেতা রাহাত জানান, গত বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) নতুন দাম ঘোষণার পর থেকে কোম্পানিগুলো সরবরাহ বাড়ায়নি। নতুন দরের তেল না আসা পর্যন্ত তারা নিয়মিত অর্ডারগুলোও আটকে রাখছে। দোকানদারদের দাবি, গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে ডিলাররা তেল দিচ্ছেন না। বারবার অনুরোধের পর অল্প কিছু সরবরাহ দিলেও কমিশনের পরিমাণ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।

তেলের পাশাপাশি বাজারে চিনির সরবরাহও কমেছে। অনেক খুচরা দোকানে চাহিদামতো চিনি পাওয়া যাচ্ছে না। গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে চিনির দাম কেজিতে প্রায় ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়েছে। বিক্রেতারা জানিয়েছেন, পাইকারি বাজারে দাম বৃদ্ধি এবং সরবরাহ সংকটের কারণেই খুচরা পর্যায়ে এর প্রভাব পড়েছে।

সবজির বাজারেও নেই কোনো স্বস্তির খবর। গত সপ্তাহের তুলনায় প্রায় সব ধরনের সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বেগুন, করলা, বরবটি, ঢেড়স, পটল ও কাকরোলসহ বেশিরভাগ সবজিই এখন বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে। শীতকালীন শিম আগাম বাজারে এলেও এর দাম আকাশছোঁয়া—১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজি।

শসা তুলনামূলক সাশ্রয়ী হলেও হাইব্রিড জাতের কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, আর দেশি শসা বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়। পেঁপে পাওয়া যাচ্ছে ৪০ টাকা কেজিতে। লম্বা বেগুন ১০০ ও গোল বেগুন ১২০ এবং টমেটো ১২০ থেকে ১৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া চিচিঙ্গা ও করলা ৮০ টাকা, চালকুমড়া পিস ৫০ থেকে ৭০ টাকা এবং কচুর মুখি ৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হতে দেখা গেছে। কাঁচামরিচের দাম গত সপ্তাহের ১২০ টাকা থেকে বেড়ে আজ ১৬০ টাকায় ঠেকেছে।

তবে শাকের বাজার কিছুটা স্থিতিশীল রয়েছে। লাল শাক ও কলমি শাক ১০ টাকা আঁটি, ডাঁটা শাক ৩০ থেকে ৪০ টাকা, পুঁই শাক ৩০ থেকে ৫০ টাকা, লাউ শাক ৪০ থেকে ৬০ টাকা এবং কচু শাক ২৫ থেকে ৩০ টাকা আঁটি দরে বিক্রি হচ্ছে।

সবজি কিনতে আসা আবু দাউদ নামের এক ক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, 'বাজারে এমন কোনো সবজি নেই যার দাম কেজিতে অন্তত ১০ টাকা বাড়েনি। ৮০ টাকার নিচে কোনো সবজি পাওয়া যাচ্ছে না। টমেটো বা বেগুন কিনতে গেলে ১২০ টাকা লাগে। যারা দিনে ৫০০-৬০০ টাকা আয় করেন, তারা মাছ কিনবেন নাকি সবজি আর চাল কিনবেন? সরকারের উচিত আমাদের মতো মানুষের কথা ভাবা।' 

মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের প্রোটিনের প্রধান উৎস ডিমেও মেলেনি স্বস্তি। বাজারে এক ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৬৫ টাকায়, আর এক হালি ৫৫ টাকা। ক্রেতাদের অভিযোগ, আগে ডজন কিনলে ২-১ টাকা ছাড় পাওয়া যেত, এখন সেই সুযোগও নেই। ডিম বিক্রেতা মাসুম জানান, ফার্মের ডিমের হালি এখন ৫৫ টাকা এবং দাম কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

মুরগির বাজারে বড় কোনো পরিবর্তন নেই। ব্রয়লার ১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস আগের মতোই ৮০০ টাকা কেজি দরে অপরিবর্তিত রয়েছে।

এদিকে মাছের বাজার এখনো সাধারণের নাগালের বাইরে। তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা এবং পাঙাশ ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। রুই-কাতলা ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকা এবং চিংড়ি ১০০০ থেকে ১৩০০ টাকা কেজি। এছাড়া পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, চাষের কই ৩০০ টাকা এবং পোয়া মাছ ২৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আকার ভেদে চাষের শিং মাছ ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

নিউ মার্কেটের মাছ বিক্রেতা মফিজুল ইসলাম জানান, মাঝারি সাইজের রুই মাছ ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে বেলে মাছের মতো নদীর দেশি মাছের চাহিদা বেশি থাকায় এর দাম কেজিপ্রতি ১০০০ টাকা ছাড়িয়ে গেছে।