পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আওয়াল মিন্টু বলেছেন, শেরপুরের বনভূমিকে হাতির নিরাপদ আবাসস্থল হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। গারো পাহাড়ে হাতির অভয়ারণ্য গড়ে তোলা সম্ভব হলে বন দখলও বন্ধ হবে। একইসঙ্গে শেরপুরের অপরুপ সৌন্দর্যের গারোপাহাড়, বন্যহাতিসহ প্রকৃতিক পরিবেশকে কাজে লাগিয়ে এ অঞ্চলে বৃহৎ আকারে পর্যটন শিল্প গড়ে উঠতে পারে। গারোপাহাড়ে বিচরণরত বন্যহাতি সুরক্ষায় আন্তর্দেশীয় করিডর চালু করতে আগের প্রটোকল অনুসারে শিগগিরই ভারতের সঙ্গে সংলাপ শুরু করা হবে। শনিবার শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার মধুটিলা ইকোপার্ক ও ঝিনাইগাতী উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে মানুষ-হাতি দ্বন্দ্ব নিরসনে এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম, গণমাধ্যমকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীদের সঙ্গে তিনি পৃথক দুটি মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, আমরা নিজেরা বসে হাতি-মানুষ দ্বন্দ্ব নিরসনে যা যা করা দরকার তা আমরা যত শীঘ্রই করতে পারবো ততোই আমাদের জন্য মঙ্গলজনক হবে। তিনি আরও বলেন, পরিবেশ, প্রতিবেশ ও বন্যপ্রাণীর সংরক্ষণের বিষয়টি সরকারের দায়িত্বের মধ্যে পরে। কিন্তু আমাদের দেশে মানুষের ঘনত্ব অন্যান্য দেশের চেয়ে অনেক বেশি। আবার এই এলাকায় যে বন রয়েছে তাতে হাতির সংখ্যাও তুলনামূলক বেশি রয়েছে। শেরপুরের গারো পাহাড়ে হাতির অভয়ারণ্যের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী ও বনবিভাগের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ময়মনসিংহ বন বিভাগ ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত দুটি মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন। এতে বক্তব্য দেন শেরপুর-২ (নকলা-নালিতাবাড়ী) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফাহিম চৌধুরী, শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের সংসদ সদস্য মো. মাহমুদুল হক রুবেল, প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী, বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চল, ঢাকার বন সংরক্ষক মো. ছানাউল্যা পাটওয়ারী, কেন্দ্রীয় অঞ্চলের বন সংরক্ষক এ. এস. এম জহির উদ্দিন আকন, প্ুিলশ সুপার এ. কে. এম জহিরুল ইসলাম, ময়মনসিংহ বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কাজী মুহাম্মদ নূরুল করিম, শেরপুর প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ হাসান বাদল, সিনিয়র সাংবাদিক এস কে সাত্তার, এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিমের সদস্য লরেন্স দ্রং, ইমতিয়াজ জাবেদ প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সুমাইয়া খানম সাবা ও রুফাইদা ইসলাম রদি।
এসময় জেলা প্রশাসন, বনবিভাগ, গণমাধ্যম ও পরিবেশকর্মী, ইআরটির সদস্যগণ, উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী শ্রীবরদী, ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ী উপজেলায় হাতির আক্রমণে হতাহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ক্ষতিপূরণের ১৬ লাখ ৬৫ হাজার টাকার চেক তুলে দেন এবং ৩২ টি ইআরটি টিমের সদস্যদের মধ্যে হ্যান্ড মাইক, টর্চ লাইটসহ হাতি তাড়ানোর বিভিন্ন সরঞ্জাম বিতরণ করেন।এর আগে মন্ত্রী গারো পাহাড়ের নালিতাবাড়ীর ওসমানের খোল ও ঝিনাইগাতীর গজনী বিট অফিসের পশ্চিমে পৃথক দুটি হাতি চলাচলের রাস্তা পরিদর্শন করেন।