রাজশাহীর তানোর পৌর এলাকার কালীগঞ্জহাট ডিগ্রি কলেজের (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যক্ষ সফিউজ্জামান ওরফে খোকনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে প্রায় সোয়া কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। আওয়ামী মতাদর্শী এই অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে গত ১০ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) তানোর পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও বিএনপি নেতা সাইদুর রহমান বাদী হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তবে অভিযোগ জমা দেওয়ার দীর্ঘ দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও অজ্ঞাত কারণে কোনো তদন্ত বা কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। প্রশাসনের এই উদাসীনতায় স্থানীয় এলাকাবাসী, অভিভাবক ও সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। বিক্ষুব্ধ অভিভাবকেরা অবিলম্বে সরেজমিন তদন্তপূর্বক অভিযুক্ত অধ্যক্ষের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনের সাবেক এমপি ওমর ফারুক চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে পরিচিত ছিলেন অধ্যক্ষ সফিউজ্জামান খোকন। তিনি দলীয় প্রভাব খাটিয়ে ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে কলেজের বিভিন্ন খাত থেকে মোট ১ কোটি ১০ লাখ ৩৫ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত মূল ৬টি দুর্নীতি ও বাণিজ্যের বিবরণ নিচে তুলে ধরা হলো:
উপাধ্যক্ষ নিয়োগে বাণিজ্য: কলেজের উপাধ্যক্ষ (ভাইস প্রিন্সিপাল) নিয়োগ দেওয়ার নামে এক প্রার্থীর কাছ থেকে ১৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
কর্মচারী নিয়োগে অনিয়ম: কলেজে ৪ জন কর্মচারী নিয়োগের বিপরীতে মোট ৪৮ লাখ টাকা বাণিজ্য করেছেন অধ্যক্ষ খোকন।
শিক্ষকদের স্কেল পরিবর্তন: শিক্ষকদের উচ্চতর বা পরিবর্তিত স্কেল পাইয়ে দেওয়ার নাম করে বিভিন্ন শিক্ষকের কাছ থেকে ২ লাখ ৩৫ হাজার টাকা আদায় করেছেন।
জেলা পরিষদের অনুদান নয়ছয়: জেলা পরিষদ থেকে কলেজের জন্য বরাদ্দকৃত ২০ লাখ টাকার উন্নয়ন অনুদান কোনো কাজ না করেই আত্মসাৎ করেছেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুদান লোপাট: শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত আরও ২০ লাখ টাকার বিশেষ অনুদান জালিয়াতির মাধ্যমে পকেটে পুরেছেন।
কলেজের বাগান লিজ: নিয়মবহির্ভূতভাবে কলেজের বাগান ৩ বছরের জন্য লিজ দিয়ে প্রাপ্ত ৩ লাখ টাকা কলেজের তহবিলে জমা না করে নিজে আত্মসাৎ করেছেন।
অভিযোগকারী সাবেক কাউন্সিলর সাইদুর রহমান বলেন, "অধ্যক্ষ খোকনের এই বিশাল অংকের দুর্নীতি ও অনিয়মের বিষয়ে বিগত দিনে কথা বলতে গেলে তিনি আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। শুধু তাই নয়, মুখ খুললে গুম করা এবং হাত-পা কেটে রাস্তায় ফেলে রাখার মতো ভয়াবহ প্রাণনাশের হুমকিও প্রদান করেন। বর্তমান সময়ে অভিযোগ করেও অধ্যক্ষ খোকনের বিরুদ্ধে ইউএনও কোন কার্যকরি পদক্ষেপ আরও নেয়নি। সাবেক এমপির প্রভাব ও তার ক্যাডার বাহিনীর ভয়ে বিগত দিনে কেউ এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস পায়নি।"
দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যক্ষ সফিউজ্জামান খোকন সম্পূর্ণ অস্বীকার করে বলেন, "আমাকে সামাজিকভাবে হেনস্থা ও কোণঠাসা করার উদ্দেশ্যে সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বানোয়াট অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এর কোনো সত্যতা নেই।"
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাঈমা খান জানান, "লিখিত অভিযোগটি আমরা হাতে পেয়েছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় তদন্ত সম্পন্ন করা হবে এবং তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী আইনগত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"