বিশ্ব সাইকেল দিবস

প্রকাশ ঘোষ বিধান
| আপডেট: ৩ জুন, ২০২৬, ০৪:১১ পিএম | প্রকাশ: ৩ জুন, ২০২৬, ০৪:১১ পিএম
বিশ্ব সাইকেল দিবস
প্রকাশ ঘোষ বিধান

৩ জুন বিশ্ব সাইকেল দিবস। সাইকেলের অনন্যতা, দীর্ঘস্থায়িত্ব ও বহুমুখিতাকে উদযাপন এবং পরিবহন মাধ্যম হিসেবে এর ব্যবহারকে উৎসাহিত করতে ২০১৮ সালে জাতিসংঘ এই দিনটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়। প্রতিবছর জুন মাসের ৩ তারিখে সমগ্র বিশ্বজুড়ে পালন করা হয় সাইকেল দিবস। এর মূল লক্ষ্য সাধারণ মানুষকে দৈনন্দিন ছোটখাটো যাতায়াতে সাইকেল ব্যবহারে উৎসাহিত করা।

২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ সভায় ৩ জুন বিশ্ব সাইকেল দিবস হিসেবে উদ্যাপন করার প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। পরিবেশবান্ধব, সহজলভ্য এবং স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী এই বাহনটির ব্যবহার বাড়াতে সচেতনতা তৈরি করা দিবসটি পালনের উদ্দেশ্য।

বাংলাদেশে প্রতি বছর এই দিনে বিভিন্ন সাইক্লিং কমিউনিটি এবং পরিবেশবাদী সংগঠন নানা সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করে। বিশ্ব সাইকেল দিবস বর্তমান সুস্থ জীবন নির্বাহ পদ্ধতিকে প্রচারের জন্য অনুষ্ঠিত করা হয়। সাইকেল চালানো স্বাস্থ্যের জন্য লাভজনক। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন মাত্র ৩০ মিনিট সাইকেল চালালে তা ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের ঝুঁকি বহুলাংশে কমাতে সাহায্য করে। সাইকেল চালালে মস্তিষ্কে এন্ডোরফিন বা সুখ হরমোন নিঃসৃত হয়, যা মনকে ফুরফুরে রাখে এবং ঘুমের গুণগত মান বাড়ায়।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অধ্যাপক লেসজেক সিবিলস্কি তাঁর সমাজশাস্ত্রের শ্রেণিতে তৃণমূল পর্যায়ে বিশ্ব সাইকেল দিবসের রাষ্ট্রসংঘের স্বীকৃতির জন্য এক অভিযানের সূচনা করেছিলেন। ২০১৫ সালে সিবিলস্কি একটি একাডেমিক প্রকল্প নিয়ে কাজ শুরু করেন। পরে তাঁর এই অভিযান তুর্কমেনিস্তানকে নিয়ে ৫৬টি দেশের সমর্থন লাভ করে। এই প্রকল্পটি একটি বড় আন্দোলনে পরিণত হয়েছিল এবং শেষ পর্যন্ত বাইসাইকেলের জন্য জাতিসংঘ একটি দিন নির্ধারিত করে। ২০১৮ সালের ১২ এপ্রিল জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্র সর্বসম্মতিক্রমে ৩ জুনকে বিশ্ব বাইসাইকেল দিবস হিসেবে ঘোষণা করে।

সাইকেল কোনো জীবাশ্ম জ্বালানি ছাড়াই চলে, যা কার্বন নির্গমন এবং বায়ু দূষণ কমাতে সরাসরি সাহায্য করে। নিয়মিত সাইকেল চালালে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে, পেশী শক্তিশালী হয় এবং অতিরিক্ত ওজন নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয়। এটি অত্যন্ত কম খরচে যাতায়াতের একটি নির্ভরযোগ্য ও সহজ মাধ্যম। যানজটমুক্ত শহর ও টেকসই নগর পরিবহনের মডেল তৈরিতে সাইকেলের ভূমিকা অপরিসীম।

নিয়মিত সাইকেল চালানো বা সাইক্লিং শারীরিক ও মানসিক উভয় স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত কার্যকর একটি অ্যারোবিক ব্যায়াম। সাইক্লিং হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস ও রক্ত সঞ্চালনকে উন্নত করে হৃদরোগের ঝুঁকি কমিয়ে দেয়। তীব্র গতিতে সাইকেল চালালে ঘণ্টায় প্রায় ৫০০ থেকে ৭০০ ক্যালোরি পর্যন্ত বার্ন করা সম্ভব, যা শরীরের অতিরিক্ত ওজন কমাতে দারুণ ভূমিকা রাখে। এটি পায়ের মাংসপেশি শক্তিশালী করে এবং জয়েন্টের ওপর অতিরিক্ত চাপ না ফেলেই হাড়ের ঘনত্ব বাড়াতে সাহায্য করে।

বিশ্ব সাইকেল দিবস সমগ্র বিশ্বে জাতি, বর্ণ, লিঙ্গ, বয়সভেদে উদ্যাপন করা হয়। সাইকেল মানবসভ্যতার ক্রমবিকাশের এক প্রতীক। বাইসাইকেল এমন একটি যানবাহন, যা সমাজের একজন ধনী থেকে গরিব পর্যন্ত সবাই ব্যবহার করতে পারে। এটি বায়ু দূষণ কমায়। ট্রাফিক যানজট নিরসন করে। সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। এটি সহনশীলতা, পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং শ্রদ্ধা বৃদ্ধি করার সঙ্গে সামাজিক সমাবেশ এবং সাংস্কৃতিক শান্তি প্রদান করে।

সাইকেল মানবসভ্যতার ক্রমবিকাশের প্রতীক। এটা সহনশীলতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা বাড়ানো, সামাজিক বন্ধন এবং সংস্কৃতির বাহন হিসেবে কাজ করে। জাতিসংঘ সাইকেলকে শান্তি, সহনশীলতা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও জলবায়ুর জন্য উপযুক্ত যানবাহন হিসেবে পরিচয় করিয়েছে। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় হচ্ছে বাইসাইকেল। বিশেষ করে উন্নত দেশের মানুষ সাইকেলের দিকে বেশি ঝুঁকছে।

লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে