খুলনার দিঘলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে বালুর মাঠে অনুষ্ঠিত ৪৮ দলীয় মিনি ফুটবল টুর্নামেন্ট খেলা ও এলাকায় চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারের দ্বন্দ্ব নিয়েই উত্তেজনা সৃষ্টি এবং হামলা, দোকান ভাঙ্গচুর ও দেশী অস্ত্রের মোহড়া প্রদর্শিত হয়েছে। পুলিশ প্রথম দিকে পরিস্থিতি প্রতিকূল ও হুমকি দেখে থানার প্রধান ফটক বন্ধ করে দেয় এবং পরবর্তীতে পরিস্থিতি শিথিল হলে কয়েকজন পুলিশ সদস্য এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে চেষ্টা করে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের ৮/১০ জন আহত হয়।
এলাকাবাসী ও পুলিশের সূত্র থেকে জানা যায়, গত শনিবার দিবাগত রাত পৌণে ১০ টায় দিঘলিয়া উপজেলার ব্রহ্মগাতী বালুর মাঠে অনুষ্ঠিত এ মিনি ফুটবল টুর্নামেন্ট খেলার পাশাপাশি এর সঙ্গে এলাকায় চুরির অভিযোগ জড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠে। কেউ কেউ স্থানীয়দের ভাষায়, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয় এমন ব্যক্তিদের ওপরও অভিযোগের দায় চাপানোর চেষ্টা চলছে—যাকে অনেকে ‘উধোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে’ দেওয়ার সঙ্গে তুলনা করছেন।
অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখতে জামায়াতের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দেওয়া হয়েছে। এতে স্থানীয় জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে । তারা এই মিথ্যা ও হয়রানীমূলক মামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মিনি ফুটবল খেলা ও এলাকায় চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত। পরবর্তীতে বিষয়টি রাজনৈতিক বিরোধে রূপ নেয়। এক পক্ষ অপর পক্ষকে ঘায়েল করতে বিভিন্ন অভিযোগ সামনে আনছে বলে দাবি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রকৃত ঘটনা তদন্ত না করেই রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় নিয়ে মামলা ও হয়রানি করা হলে এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা আরও বিঘ্নিত হতে পারে। তারা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং নিরপরাধ ব্যক্তিদের হয়রানি বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। এলাকাবাসী এ প্রতিবেদককে জানান, ঘটনাস্থলে জামায়াতের কোনো নেতাকর্মী উপস্থিত না থাকলেও তাদের নামে মিথ্যা ও গায়েবী মামলা দেওয়া হয়েছে। এখানেই শেষ নয়, জামায়াতের প্রচার ও প্রসার বাধাগ্রস্ত করার জন্য ঠান্ডা মাথায় ষড়যন্ত্রের নীল নকশা বোনা হচ্ছে। যার ব্যাপারে জামায়াত শিবিরের কোনো নেতা কর্মীদের দূরতম কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
এসব অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামায়াতকে দায়ী করেছেন। তবে দিঘলিয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাওলানা মুশফিকুর রহমান এ প্রতিবেদককে জানান, এ হামলা, মারামারির ঘটনার সাথে জামায়াত শিবিরের দূরতম সম্পৃক্ততা নেই। এ সংঘাত বিএনপির সাজানো নাটক। এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, শক্তির প্রদর্শন ও ফ্যাসীবাদী কায়দায় জামায়াতের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করার ষড়যন্ত্রেরই অংশ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে আমরা প্রধান ফটক বন্ধ করে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করি এবং ঘটনার এক পক্ষের নেতৃত্বদানকারী জাকির হোসেনকে গ্রেফতার করি। এ ঘটনায় আসলাম শেখ নামক জনৈক ব্যক্তি দিঘলিয়া থানায় ১৭ জনসহ অজ্ঞাত আরো ৩০/৩৫ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেছে। একটা মহলের হুংকারে দিঘলিয়া থানা মোড়ে কয়েকটা দোকান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মিথ্যা ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত জামায়াত নেতাকর্মীদের নামে মামলা করা হয়েছে যার সাথে তাদের দূরতম সম্পৃক্ততা নেই এমনটাই জানিয়েছেন দিঘলিয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দসহ এলাকার শান্তিপ্রিয় লোকজন। নেতৃবৃন্দ আরো জানান, আদর্শকে আদর্শ দিয়ে মোকাবেলা করতে হয়। ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করলে সেটা জনগণ গ্রহণ করে না। সে ষড়যন্ত্র বুমেরাং হয়।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, রাজনৈতিক বিরোধে সাধারণ মানুষকে জড়িয়ে না ফেলে সংশ্লিষ্টদের উচিত আলোচনার মাধ্যমে বিরোধের অবসান ঘটানো। পাশাপাশি অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।