রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার মৌগাছী ইউনিয়নের চাঁদপুর গ্রামের দুটি পরিবারের একের পর এক মানুষকে ফাঁদে ফেলে ফাঁসানোর প্রতিবাদে ও গ্রামে অসামাজিক কার্যকলাপ বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে এলাকাবাসী।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) বিকেল ৫ টায় চাঁদপুর গ্রামের পশ্চিমপাড়ায় পাকা রাস্তা মাথার সামনে ঘন্টাব্যাপী এই কর্মসূচী পালন করা হয়। মানববন্ধনে উপস্থিত গ্রামবাসী বলেন, চাঁদপুর গ্রামের জনৈক মিলন ও স্বপন নামের দুই ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের নারী সদস্যদের দিয়ে মিথ্যা মামলাসহ বিভিন্ন ভাবে নানা ধরনের অসামাজিক ও অনৈতিক কার্যকলাপ চালিয়ে আসছে। প্রতিবাদ করতে গেলে মিথ্যা মামলাসহ বিভিন্নভাবে স্থানীয়দের হয়রানি করে আসছে।এই পরিবারের কারনে স্থানীয় কিশোর থেকে তরুন সহ নানা অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে পড়ছে। ফলে ভাঙছে অনেক সংসার। অনেক যুবক, পুরুষকে ধরে অন্যায় ভাবে অসামাজিক কার্যকলাপে করার কথা বলে তাদের আটকে কিংবা মামলার ভয় দেখিয়ে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ব্ল্যাকমেইল করে একাধিক পুরুষকে ধর্ষণ মামলা দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। ইতোপূর্বে এলাকার একাধিক ব্যক্তির নামে ধর্ষণ মামলা দিয়ে হয়রানিসহ এক ব্যক্তির কাছ থেকে ব্ল্যাকমেইল করে ধর্ষণ মামলা দিয়ে ২ লাখ টাকা আদায় করে। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে বিভিন্ন সময় অভিযোগ করলেও প্রতিকার মিলছে না। তাই প্রশাসনের কাছে অসামাজিক কর্মকান্ড বন্ধ ও নির্মূলের জোর দাবি জানায় গ্রামবাসী। অসামাজিক কাজ বন্ধ করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে একটি মিছিল বের করে এলাকাবাসী। হয়রানির কারণে আতঙ্কিত হয়ে পড়ছে স্থানীয়রা। মানববন্ধনে ভুক্তভোগীরা জানান, সম্প্রতি মোহনপুর থানার সাময়িক বরখাস্তকৃত এ এস আই বেলাল হোসেন ওই পরিবারের একজন নারী সদস্যার সাথে আপত্তিকর অবস্থায় গ্রামবাসী আটক হওয়া বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে অগত্যা মোহনপুর থানা পুলিশ আটককৃত এ এস আই বেলাল হোসেনকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন ওই দিনই তিনি রাজশাহী পুলিশ লাইনে ক্লোজ হন। এই পরিস্থিতির জের ধরেই গ্রামের আব্দুল লতিফের ছেলে মিজানকে কোন প্রকার তদন্ত না করেই ধর্ষন চেষ্ঠা মামলা দিয়ে তড়িঘড়ি গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করে মোহনপুর থানা পুলিশ। মানববন্ধনে এ এস আই বেলাল হোসেনের পৃষ্ঠপোষকতায় পরিবার দুটি আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠে জানিয়ে সাজানো মামলাগুলো সঠিক তদন্ত করে নির্দোষ ব্যক্তিদের মুক্তির দাবী জানানো হয়। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সাবেক ইউপি সদস্য আফসার আলী, আশিক এবং মিজানের স্ত্রী সুলতানা। অন্যান্যদের মধ্যে সৈয়মুদ্দিন, জাকির হোসেন, আলাউদ্দিন, হোসেন আলী, আশরাফ, নিজাম উদ্দিনসহ নারী ও পুরুষ উপস্থিত ছিলেন।
মোহনপুর অফিসার ইনচাজ থানার (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, অসামাজিক কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।