যানজট নিরসন ও সরকারি জায়গা দখলমুক্ত করতে চাঁদপুর-কুমিল্লা- ফরিদগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কে তিন দিনব্যাপী যৌথ উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে। সোমবার (২৪ আগস্ট) সকাল থেকে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
মহাসড়কের খাজুরিয়া থেকে বর্ডার বাজার পর্যন্ত দুই পাশে প্রায় ছয় শতাধিক অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করা হয়েছে। অভিযানের প্রথম দিনেই শহরের ওয়ারলেস, বাবুরহাটসহ বিভিন্ন পয়েন্টে অর্ধশতাধিক অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ করা হয়।
চাঁদপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহা. ইউনুস আলী বলেন, মহাসড়কের দুই পাশে অবৈধভাবে দখল করে থাকা স্থাপনা সরিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট দখলদারদের আগেই নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নোটিশ দেওয়ার পরও অনেকেই স্থাপনা সরিয়ে না নেওয়ায় নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযানের অংশ হিসেবে এ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। আপাতত তিন দিন এ অভিযান চলবে। পর্যায়ক্রমে চিহ্নিত সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে।
তিনি বলেন, উচ্ছেদ শেষে উদ্ধার হওয়া সরকারি জায়গাগুলো আর যাতে পুনরায় দখল না হয়, সে বিষয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারের পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষ রোপণের কর্মসূচির অংশ হিসেবে দখলমুক্ত জায়গাগুলোতে বৃক্ষরোপণ করা হবে। নির্বাহী প্রকৌশলী আরও বলেন, বাবুরহাট এলাকায় প্রায় সময়ই তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। উচ্ছেদের পর সেখানে উদ্ধার হওয়া জায়গায় ইন্টারসেকশন করা হবে। এতে সড়কের জায়গা আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হবে এবং যানবাহন চলাচলে স্বাভাবিক গতি ফিরে আসবে। পাশাপাশি ওই এলাকায় যানজটও অনেকটা কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাসুদ রানা বলেন, সড়ক বিভাগের দখলকৃত জায়গা উদ্ধারে জেলা প্রশাসন ও সড়ক বিভাগ যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করছে। অভিযানে নেতৃত্বদানকারী জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাসুদ রানা জানান, "সড়ক বিভাগের দখলকৃত জায়গা উদ্ধারে জেলা প্রশাসন ও সড়ক বিভাগ যৌথভাবে কাজ করছে। সরকারি জায়গা দখলমুক্ত করার এই অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং উদ্ধার হওয়া জমি যাতে পুনরায় দখল না হয়, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি রাখা হবে।"
সওজ জানিয়েছে, উচ্ছেদকৃত জমিতে বৃক্ষরোপণ এবং বাবুরহাট এলাকায় যানজট নিরসনে একটি বিশেষ ইন্টারসেকশন নির্মাণ করা হবে। এই অভিযানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সার্বিক সহযোগিতা করেন।