নওগাঁর পোরশায় পুনর্ভবা নদীতে অবৈধ সুতি জালের মহোৎসব। হুমকিতে প্রকৃত মৎস্যজীবীরা। উপজেলার নিতপুর সীমান্ত ঘেঁষে বয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী পুনর্ভবা নদীতে অবাধে বসানো হয়েছে অবৈধ সুতি জাল। একদল অসাধু ও প্রভাবশালী চক্রের দাপট ও মৎস প্রশাসনের রহস্যজনক নীরবতায় নদীজুড়ে এ অবৈধ সুতিজাল দিয়ে মাছ ধরার অপতৎপরতা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, সীমান্তবর্তী এই নদীর প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে পশ্চিম রঘুনাথপুর টেকঠার ঘাট থেকে পারঘাটি পর্যন্ত কমপক্ষে ১৫ থেকে ২৮টি সুতিজাল বসানো হয়েছে। এ জাল বসানোর কারনে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ আটকে পানির তলদেশের ছোট-বড় সব ধরনের মাছ ও পোনা ধ্বংস হচ্ছে। নদীর ওপর নির্ভরশীল স্থানীয় রঘুনাথপুর ও নিতপুর এলাকার গরিব ও অসহায় মৎস্যজীবীরা এখন চরম বিপাকে পড়েছেন। জাল দিয়ে মাছ ধরা দায় হয়ে পড়েছে তাদের। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন জেলে জানান, সুতি জালের কারণে নদীতে আর আগের মতো মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। প্রভাবশালীরা নদীর পুরো পথ আটকে ব্যবসা করছে। এতে তাদের পেটে লাথি মারা হচ্ছে বলে তারা মনে করেন। প্রতিবাদ করতে গেলেও ভয়ভীতি দেখানো হয় বলেও তারা অভিযোগ করেন। এব্যাপারে সহকারি মৎস কর্মকর্তা আইয়ুব আলী কো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না বলে তারা অভিযোগ করেন। এতে শুধু মৎস্যজীবীরা নন, এই অনিয়মের কারণে সীমান্ত সুরক্ষায় নিয়োজিত বিজিবি (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ)-এর নিয়মিত টহল কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। নদীর মধ্যে জালের বাঁশ ও খুঁটি থাকায় বিজিবির স্পিডবোট এবং নৌকা চলাচলে চরম প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে সীমান্তবর্তী এই নদীতে রাতে বা দিনে ঠিকমতো টহল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না, যা সীমান্ত নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকিস্বরূপ বলে জানাচ্ছেন বিজিবি সদস্যরা। এভাবে প্রকাশ্যে নদীতে সুতি জাল বসিয়ে মাছ শিকার করা হলেও মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান অভিযান চালানো হয়নি। অসাধু ব্যবসায়ীদের এমন অপতৎপরতায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। এবিষয়ে উপজেলা সহকারি মৎস কর্মকর্তা আইয়ুব আলীর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।