বাংলাদেশের সার্বিক সংস্কারে ইউএনডিপির পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস

নিজস্ব প্রতিবেদন | প্রকাশ: ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ০৪:০২ পিএম
বাংলাদেশের সার্বিক সংস্কারে ইউএনডিপির পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস
ছবি: সংগ্রহীত

বাংলাদেশের আইনি ও বিচারিক সংস্কার, সংবিধান সংশোধনসহ সার্বিক সংস্কার প্রক্রিয়ায় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এ বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন রড্রিগেজসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সাংবিধানিক সংস্কার, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সহায়তা, পুলিশের পেশাগত দক্ষতা ও সামর্থ্য বৃদ্ধি এবং গুজব ও অপতথ্য প্রতিরোধে প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তার বিষয় উঠে আসে। পাশাপাশি প্রস্তাবিত জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়।

বৈঠকে ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন রড্রিগেজ বলেন, বর্তমান সরকারের লক্ষ্য, অগ্রাধিকার ও কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে তারা সহযোগিতা করতে চান। সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত বিশেষ কমিটির সভাপতি হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে এ প্রক্রিয়ায় ইউএনডিপি সহায়তা দিতে আগ্রহী।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইউএনডিপির ধারাবাহিক সহায়তার প্রশংসা করেন। ভবিষ্যতে এই সহযোগিতা আরও বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

বৈঠকে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রসঙ্গও গুরুত্ব পায়। ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পরিবেশ সুরক্ষা, পাহাড়ধস প্রতিরোধ এবং সামাজিক উন্নয়নমূলক বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে ক্যাম্পের অভ্যন্তরীণ জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে তারা কাজ করছেন।

এর জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বিদ্যমান অবকাঠামোর যথোপযুক্ত উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন করা প্রয়োজন। তবে বৃহত্তর স্বার্থে সেখানে নতুন করে কোনো অবকাঠামো নির্মাণ করতে চায় না সরকার।

পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। স্টিফেন রড্রিগেজ জানান, নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ, সংঘাত ও বিরোধ নিষ্পত্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশ পুলিশের পেশাগত দক্ষতা ও সামর্থ্য বাড়াতে ইউএনডিপি প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও পুলিশের দক্ষতা ও সামর্থ্য বৃদ্ধিতে ইউএনডিপির সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে গুজব, অপতথ্য ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হয়। ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি বলেন, এসব প্রবণতা কার্যকরভাবে মোকাবিলায় তারা তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কাজ করছেন। কোনো লঙ্ঘন ঘটলে দ্রুত প্রতিকার নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা দেওয়ার আগ্রহের কথাও জানান তিনি।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাইবার সুরক্ষা আইন ইতোমধ্যে পাস হয়েছে। তিনি বলেন, "আপনারা এ আইনের সফল বাস্তবায়নে লজিস্টিক সহায়তা প্রদান করতে পারেন।"

প্রস্তাবিত জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন ২০২৬’-এর খসড়া মন্ত্রিসভায় চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে। জাতীয় সংসদের আগামী অধিবেশনে এটি পাস হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, আইনটি প্রণয়নের ক্ষেত্রে ইউএনডিপি, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা, বিদেশি মিশন, উন্নয়ন অংশীদার, পত্রিকার সম্পাদক ও আইনজীবীসহ বিভিন্ন অংশীজনের মতামত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের সামাজিক মনস্তত্ত্ব ও ধর্মীয় অনুভূতিকেও বিবেচনায় রাখা হয়েছে। তাঁর আশা, আইনটি যুগোপযোগী ও গ্রহণযোগ্য হিসেবে স্বীকৃতি পাবে।

গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিষয়টিও আলোচনায় আসে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে দেশে কোনো গুম বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেনি। নিজের গুম হওয়ার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন ২০২৬’-এর খসড়াও মন্ত্রিসভায় নীতিগত অনুমোদন পেয়েছে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বাংলাদেশের সঠিক ভাবমূর্তি তুলে ধরার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সবসময় বাংলাদেশের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরে না। তাঁর মতে, বাংলাদেশ একটি উদার ও ধর্মীয় সহনশীল দেশ এবং এই ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরতেও ইউএনডিপি কাজ করতে আগ্রহী।

সাক্ষাৎকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক ও বহিরাগমন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান এবং ইউএনডিপি বাংলাদেশের প্রোগ্রাম ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড পার্টনারশিপ সাপোর্ট স্পেশালিস্ট সাইফ ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে