চাঁদপুরের হাইমচর মেঘনা নদীর পশ্চিম পাড় আদালতের নিয়ন্ত্রণে থাকা আলোচিত ‘টিপুনগর’ মৎস্য ঘেরের মাছ অবৈধভাবে বিক্রির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা পুলিশ। গত মঙ্গলবার বিকেলে পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমানের নির্দেশে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) খায়রুল কবিরকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ আগস্ট হাইমচর থানার তৎকালীন ওসির নির্দেশে এসআই জাকির হোসেন ঘের থেকে মাছ ধরে পার্শ্ববর্তী হায়দারগঞ্জে বিক্রি করেন। আদালতের নিয়ন্ত্রণে থাকা এই সম্পত্তি বা মাছ বিক্রির ক্ষেত্রে কোনো ধরনের উন্মুক্ত নিলাম বা দাপ্তরিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি বলে নিশ্চিত করেছেন হাইমচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নজরুল ইসলাম। এমনকি বিক্রির কোনো অর্থও সরকারি কোষাগারে জমা হয়নি। এ বিষয়ে অভিযুক্ত এসআই জাকির হোসেন ৩৯ হাজার টাকায় মাছ বিক্রির কথা স্বীকার করে জানান, টাকা তৎকালীন ওসির কাছে দেওয়ার কথা ছিল। তবে তৎকালীন ওসি বদলি হওয়ায় বর্তমান ওসি এ বিষয়ে কিছু বলতে পারেননি। অন্যদিকে, ঘেরের সুরক্ষায় মাছ তুলে বিক্রির কথা বলা হলেও পুরো বিষয়টি এখন তদন্তাধীন। গত দুই বছর ধরে স্থানীয় লোকজন টিপু নগরের মাছের ঘের থেকে মাছ এবং বাগান থেকে ফল-ফসল চুরি করে নিয়ে যাচ্ছিল। এজন্য নাকি এখানে কী পরিমাণ মাছ আছে দেখতে জাল ফেলা মাছ ধরা এবং পরে সেগুলো বিক্রি ওই সময় থানা পুলিশের পক্ষ থেকে করা হয়। সেই টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার কথা ছিল।
এ ব্যাপারে হাইমচর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. জাকির হোসেন সংবাদ মাধ্যমকে বলেন,আমরা গত ১৫ আগস্ট ওসি সাহেবের নির্দেশে টিপু নগর থেকে যে মাছ ধরেছি, সেগুলো পাশের জেলার হায়দারগঞ্জে নিয়ে ৩৯ হাজার টাকায় বিক্রি করেছি। সেই মাছ বিক্রির টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার দায়িত্ব ওসি সাহেবের। কিন্তু ওসি সাহেব গত ১৯ আগস্ট থানা থেকে বদলী হয়ে চাঁদপুর পুলিশ লাইনে সংযুক্ত হন। নতুন ওসি হিসেবে যোগদান করেন মো. শাহ আলম। এ ব্যাপারে ওসি শাহ আলম বলেন, আমি এ বিষয়ে কিছু বলতে পারব না। কারণ আমি ২৩ আগস্ট এখানে যোগদান করি।
বর্তমান হাইমচর উপজেলার ইউএনও মো. নজরুল ইসলাম বলেন, আমি গত ২৩ আগস্ট এই উপজেলায় ইউএনও হিসেবে যোগদান করি। টিপুনগর থেকে যে মাছ বিক্রি হয়েছে সেটা উন্মুক্ত নিলাম বা দরপত্রের কোনো প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি বলে জেনেছি। কিন্তু সরকারের অধিনে থাকা কোনো কিছু বিক্রি করতে হলে নিলামের মাধ্যমেই বিক্রি করতে হয়। কিন্তু থানা পুলিশ কোনো নিলাম আয়োজন করেনি বা আমাদেরকেও জানায়নি। মাছ বিক্রির অর্থও সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়নি। চাঁদপুর হাইমচর মেঘনাপাড়ের আলোচিত ‘টিপুনগর’ এখন আদালতের নিয়ন্ত্রণে। সেখানকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি দেখভালের জন্য হাইমচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) রিসিভার নিয়োগ দিয়েছেন আদালত। পুরো অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করে আগামী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।