নেপালের রাসুয়া জেলায় ভয়াবহ বন্যার পর হৃদয়বিদারক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সেখানে এখন পর্যন্ত ৫৪৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) নেপালের পুলিশ এ তথ্য জানিয়েছে। পুলিশের তথ্যমতে, বন্যাকবলিত বিভিন্ন স্থান থেকে ৫৪৭টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছেন ১ হাজার ৪৭৩ জন। এরআগে নেপালের জাতীয় দুর্যোগ প্রশমন সংস্থা ৫৩৮ জনের মরদেহ উদ্ধারের কথা জানিয়েছিল।
বর্তমানে বন্যাকবলিত অঞ্চলে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছেন ৪ হাজার ৪৭৩ পুলিশ সদস্য। এছাড়া সেনাবাহিনীর সদস্যরাও সেখানে আছেন। দেশটির জাতীয় দুর্যোগ প্রশমন সংস্থা ৯৭৭ জন নিখোঁজ থাকার তথ্য দিয়েছে। যার মধ্যে ৫১৭ জনই হলেন বিদেশি। সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, পুলিশ ও দুর্যোগ প্রশমন সংস্থা মৃতের সংখ্যা আলাদা আলাদা তথ্য দিচ্ছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে হঠাৎ করে রাসুয়ার দিকে ধেয়ে আসে আকস্মিক ঢল। এসময় সেখানে ত্রিশূলি এবং নারায়নি নদীর পানি বেড়ে যায়। আর ভোটকোশি নদীর পানি ফুলেফেঁপে ওঠে। পাহাড়ের ওপর থেকে নেমে আসা পানিতে যুক্ত হয় ভূমিধসের কাদামাটি, পাথর।
এ বানের শক্তি এতই বেশি ছিল যে এটি তার পথে থাকা সবধরনের অবকাঠামো সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দিয়েছে। ঘরবাড়ি, সেতু, গাছপালা, বৈদ্যুতিক খুঁটি- সব ভাসিয়ে নিয়ে গেছে এটি।
নেপালের পাশাপাশি চীনের স্বায়ত্বশাসিত অঞ্চল তিব্বতও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে অন্তত ৩০০ জন মানুষ নিখোঁজ আছেন। চীন তিব্বতে তিনজনের মৃত্যুর তথ্য দিয়েছিল। এরপর নতুন করে আর হতাহতের তথ্য প্রকাশ করেনি। তবে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ভয়াবহ ওই বন্যায় ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।