জামালপুর পৌর শহরের কাচারীপারার একটি বাসা থেকে সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান রিমা(২৫) নামের এক কলেজ ছাত্রীর ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার দিকে শহরের দক্ষিণ কাচাড়িপাড়া স্বপ্নপুরী আবাসিক এলাকার বকুল ভিলার একটি বাসা থেকে তার মৃতদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত ইসরাত জাহান রিমা মাদারগঞ্জ উপজেলার বালিজুড়ি এলাকার মো.রশিদুল্লাহ মন্ডলের ও সাহিদা বেগমের মেয়ে।
নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালে মাদারগঞ্জ উপজেলার চাঁদপুর এলাকার জেবু তালুকদারের ছেলে শুভর সঙ্গে গোপনে বিয়ে হয় রিমার। বিয়ের বিষয়টি পরে শুভর পরিবার জানতে পারলেও তারা এ বিয়ে মেনে নিতে পারেনি। ওই সংসারে তার একটি ছেলেসন্তান রয়েছে। শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় পরে তাদের বিচ্ছেদ হয়। সন্তানকে প্রথম স্বামীর কাছে রেখে রিমা বাবার বাড়িতে চলে আসেন। এক পর্যায়ে শুভর পরিবার শুভকে অন্যত্র বিয়ে করিয়ে দেন। বিয়ে করার পরও রিমার সঙ্গে শুভর যোগাযোগ ও একসঙ্গে থাকার বিষয়টি অব্যাহত ছিল বলে জানান নিহত রিমার পরিবার। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে শুভর পরিবারের লোকজন জোর করে শুভকে কম্বোডিয়ায় পাঠিয়ে দেয়। কম্বোডিয়া যাওয়ার পর ভিসা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে তিনি আবারও দেশে ফিরে আসেন। দেশে ফেরার পর শুভ আবারো রিমার সঙ্গে থাকতেন বলে জানায় রিমার পরিবারের সদস্যরা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন-চার মাস আগে রিমা ওই বাসার একটি কক্ষ ভাড়া নেন। বাসা নেওয়ার সময় তিনি নিজেকে বিবাহিত হিসেবে পরিচয় দেন। গত তিন-চার দিন ধরে তার কক্ষের দরজা বন্ধ ছিল। একপর্যায়ে কক্ষ থেকে দুর্গন্ধ বের হলে পাশের বাসার লোকজন বিষয়টি বাড়ির মালিককে জানান। পরে বাড়ির মালিক কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ এবং দুর্গন্ধ বের হতে দেখে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা বন্ধ দেখতে পায়। পরে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হলে সদস্যরা এসে দরজা ভেঙে কক্ষে প্রবেশ করে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় রিমার মরদেহ ঝুলছে।
নিহত রিমার বাবা রশিদুল্লাহ মন্ডল বলেন, গত সপ্তাহে শুভ ও রিমা একসঙ্গে ছিলো। তবে কয়েকদিন ধরে রিমার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছিলেন না বলে জানান। তার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি বলেন মেয়ের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে ওই বাসায় সিসি ক্যামেরা লাগানো আছে।সিসি ক্যামেরা যাচাই করে প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি জানান। রিমার সহপাঠী সানজিদা আফরিন বলেন, ‘রিমা অনেক মেধাবী ছিল। তাকে কখনো মন খারাপ করতে দেখিনি। সবার সঙ্গে মিশত।’
বাসার মালিকের ছেলে জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, প্রায় চার মাস আগে রিমা বাসা ভাড়া নেওয়ার সময় তিনি বিবাহিত এবং সঙ্গে থাকা ব্যক্তিকে স্বামী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন।
সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের ইংরেজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মোহাম্মদ মনোয়ার হুসেন মুরাদ বলেন, ‘রিমার মর্মান্তিক মৃত্যুর খবরটি শুনে গভীরভাবে মর্মাহত হয়েছি। ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন প্রত্যাশা করছি। জামালপুর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ নাজমুস সাকিব বলেন,শহরের দক্ষিণ কাচারীপাড়ার একটি বাসা থেকে এক কলেজ ছাত্রীর ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটিকে আত্মহত্যা মনে হলেও ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে তিনি জানান।