কালীগঞ্জ পৌরসভা প্রতিষ্ঠার তিন যুগেও আধুনিক ডিজিটাল সেবার ছোঁয়া থেকে বঞ্চিত পৌরসভা এলাকার প্রায় ৪৫ হাজার মানুষ। প্রথম শ্রেনীর পৌরসভাটি কাগজে-কলমে উন্নয়নের তকমা থাকলেও বাস্তবে আধুনিক নাগরিক ও ডিজিটাল সেবা থেকে পৌরবাসীরা বঞ্চিত হচ্ছেন। পৌরসভাবাসি নাগরিক সেবা পেতে আজও পুরোনো ধ্যান ধারণা ও ব্যাংকের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদেরকে।
১৯৯০ সালের ১৪ মার্চ প্রতিষ্ঠিত এই পৌরসভাটি সময়ের সাথে সাথে ২০১০ সালের ৬ এপ্রিল প্রথম শেনিতে উন্নীত হয়। পৌরসভার বর্তমান পরিধি ও জনসংখ্যা অনুযায়ী নাগরিক সেবার পরিধি বাড়লেও সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনার পদ্ধতি রয়ে গেছে সেই পুরোনো ধাচেই। পৌরসভা সূত্র বলছে,বর্তমানে পৌরসভায় হোল্ডিং ট্যাক্সদাতা ১ হাজার ৪৭০ জন,কয়েক হাজার ট্রেড লাইনেন্স ফি,পানির বিল প্রদানকারী ১৩ শত জন এবং ব্যাটারি চালিত ইজিবাইক চার্জ প্রদানকারি ১ হাজার জন নিয়মিত সেবা গ্রহীতা রয়েছেন।এতে বিপুল সংখ্যক নাগরিকের সেবা প্রদানে এখনো ডিজিটাল ডাটাবেজ বা অনলাইন পেমেন্ট সিস্টেমের আধুনিক ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি কালীগঞ্জ পৌরসভায়। ফলে বিল পরিশোধ,কর প্রদান এবং নবায়ন ফির জন্য নাগরিকদের ব্যাংকের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে প্রতিনিয়িত চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। আবার ডিজিটাল ব্যবস্থার অনুপস্থিতিতে প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রিতা ও নানা ধরনের জটিলতাও তৈরি হতে দেখা যায়।
কালীগঞ্জ বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ি জহুরুল হক বিপ্লব বলেন,পৌরসভার সব ধরনের কর আদায় প্রক্রিয়া পুরোপুরি ডিজিটাল বা অনলাইন ভিত্তিক না হওয়ার কারণে নাগরিকদের অফিসে কিংবা ব্যাংকে অতিরিক্ত সময় ব্যয় ও নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হতে হয়। অনেক সময় আমাকে দোকান বন্ধ করে বিভিন্ন লাইসেন্স নবায়নের ফি জমা দিতে ব্যাংকে যেতে হয়। যদিকিনা অনলাইন সিস্টেম চালু থাকতো তাহলে দোকানে বসেই ফি পরিশোধ করতে পারতাম।
কালীগঞ্জ পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা প্রকৌশলী কবীর হাচান বলেন, দীর্ঘদিনের এই পৌরসভাটি যদি পুরোপুরি ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনা যায়, তবে এখানকার সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় এবং হাতের নাগালেই সব ধরনের পৌরসেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।আমরা সে লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি।এ বিষয়ে কালীগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও)রেজওয়ানা নাহিদ বলেন,বিষয়টি আমি ভেবেছি,অনলাইনের মাধ্যমে সব ধরনের সেবা সহজীকরনের চেষ্ঠা করছি। ধাপে ধাপে সেটা করব। এতে করে গ্রাহক সেবা সহজ হবে।