বাঘায় ঋণের চাপে বিষপানে গৃহবধূর আত্মহত্যার চেষ্টা

এফএনএস (আমানুল হক আমান; বাঘা, রাজশাহী) : | প্রকাশ: ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৬:৩০ পিএম
বাঘায় ঋণের চাপে বিষপানে গৃহবধূর আত্মহত্যার চেষ্টা

রাজশাহীর বাঘায় ঋণের কিস্তির চাপ ও পারিবারিক আর্থিক সংকটের কারণে বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন মরিয়ম (৩২) নামে এক গৃহবধূ। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার বাউসা ইউনিয়নের ফতেপুর উত্তরপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মরিয়ম বেগম বিভিন্ন এনজিও থেকে প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে দেবর আতাউর রহমানকে দেন। আতাউর রহমান কয়েকটি কিস্তি দিলেনও আর দেন না। এরমধ্যে আতাউর রহমান তার স্ত্রীকে নিয়ে গোপনে ঢাকায় চলে যান। 

এরপর ঋণের কিস্তি পরিশোধের দায়িত্ব পড়ে মরিয়মের ওপর। বিভিন্ন সময় ঋণের কিস্তির জন্য লোকজন বাড়িতে আসতে শুরু করে। একপর্যায়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন মরিয়ম। মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে বিষ পান করে। পরিবারের লোকজন জানতে পেরে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। বর্তমানে সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

এ বিষয়ে মরিয়ম বেগমের স্বামী রুবেল হোসেন বলেন,  আমি ও আমার স্ত্রী বিশ্বাস করে ভাই আতাউরকে বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ করে টাকা দিয়েছিলাম। কথা ছিল, সে নিয়মিত কিস্তির টাকা পরিশোধ করবে। কয়েকটি কিস্তি দেওয়ার পর গোপনে তার স্ত্রীকে নিয়ে ঢাকায় চলে গেছে। আমি দিনমজুর। আমার পক্ষে এত টাকা ঋণ পরিশোধ করা সম্ভব নয়। ঋণের কিস্তির চাপের কারণে আমার স্ত্রী মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে বিষ পান করে আত্নহত্যার করতে যায়।” আমার স্ত্রী মরিয়ম বেগম টিএমএসএস থেকে ৮০ হাজার, গ্রামীণ ব্যাংক থেকে ৬০ হাজার, পাবনা প্রতিশ্রুতি এনজিও থেকে ৫০ হাজার, আভা ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন থেকে ৫০ হাজার এবং ডাম ফাউন্ডেশন থেকে ৪০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছেন। এসব ঋণের পুরো অর্থই আতাউর রহমানকে দেওয়া হয়েছিল।

তবে সংশ্লিষ্ট এনজিওর শাখা ব্যবস্থাপকদের দাবি, মরিয়ম নিয়মিত কিস্তির টাকা পরিশোধ করছেন। তার ওপর কোনো ধরনের চাপ প্রয়োগ বা হয়রানি করা হয়নি বলেও তারা জানান। এদিকে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, মরিয়মের স্বামীর ছোট ভাই আলী হোসেনের স্ত্রী আলপনা বেগমের কাছ থেকেও আতাউর বিভিন্নভাবে বুঝিয়ে ঋণের মাধ্যমে টাকা নিয়েছেন। আলপনা পাবনা প্রতিশ্রুতি এনজিও থেকে ৬০ হাজার, আভা ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন থেকে ৫০ হাজার, ডাম ফাউন্ডেশন থেকে ৫০ হাজার এবং আশা থেকে ৪০ হাজার টাকা ঋণ নেন। এসব টাকাও আতাউরকে দেওয়া হয়েছে বলে জানান। আলপনা বেগম বলেন, আমাদের বিভিন্নভাবে বুঝিয়ে প্রয়োজনের কথা বলে কিস্তির মাধ্যমে টাকা তোলান আতাউর। কিন্তু এখন তিনি টাকা ফেরত দিচ্ছেন না। তিনি পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। এ বিষয়ে আমি আইনগত ব্যবস্থা নেব। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক জানান, বিষপানের পর ওই গৃহবধূকে হাসপাতালে আনা হলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি মহিলা ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে আতাউর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেনি।  বাঘা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেরাজুল হক বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে