কুড়িগ্রামের রাজারহাটে তিস্তা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়া এক পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) তানজিলা তাসনিম। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তিনি উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিবারটির হাতে কম্বল ও ত্রাণসামগ্রী তুলে দেন। পাশাপাশি আগামী রোববার গৃহ নির্মাণের জন্য ১০ হাজার টাকার চেক দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
ভাঙনের শিকার পরিবারটি উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের রামহরি গ্রামের বাসিন্দা সাইদুল ইসলাম (৪৮)। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে তিস্তা নদীর তীব্র ভাঙনে মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে তার বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। আকস্মিক এই ভাঙনে ঘরবাড়ি ও শেষ আশ্রয়টুকু হারিয়ে স্ত্রী, তিন ছেলে-মেয়ে ও বিধবা মা রাবেয়া বেগমকে নিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন সাইদুল ইসলাম।
স্থানীয়রা জানান, তিস্তার ভাঙন হঠাৎ তীব্র আকার ধারণ করায় পরিবারটি ঘরের প্রয়োজনীয় মালামালও সরিয়ে নেওয়ার পর্যাপ্ত সুযোগ পায়নি। চোখের সামনে বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় পরিবারটির জীবনে নেমে এসেছে চরম অনিশ্চয়তা। বর্তমানে তাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই, নেই নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থাও।
পরিবারটির দুর্দশার খবর পেয়ে রাজারহাট উপজেলা প্রশাসন দ্রুত তাদের পাশে দাঁড়ায়। শুক্রবার বিকেলে ইউএনও তানজিলা তাসনিম ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেন এবং উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কম্বল ও ত্রাণসামগ্রী প্রদান করেন। একই সঙ্গে পরিবারটির জন্য একটি অস্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা ও ঘর নির্মাণে সহযোগিতার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
এ সময় ইউএনও তানজিলা তাসনিম বলেন, “তিস্তা নদীর ভাঙনে সাইদুল ইসলামের পরিবারটি বসতভিটা হারিয়ে অত্যন্ত অসহায় অবস্থায় রয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের প্রয়োজনীয় ত্রাণ ও কম্বল দেওয়া হয়েছে। পরিবারের মাথা গোঁজার ঠাঁই নিশ্চিত করতে আগামী রোববার গৃহ নির্মাণের জন্য ১০ হাজার টাকার চেক দেওয়া হবে। পরিস্থিতি বিবেচনায় পরিবারটির জন্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য সহযোগিতাও করা হবে।” হঠাৎ করে বসতভিটা হারিয়ে সাইদুল ইসলাম বলেন, “চোখের সামনে কয়েক মিনিটের মধ্যে সব শেষ হয়ে গেল। এখন পরিবার নিয়ে কোথায় থাকব, কীভাবে চলব-কিছুই বুঝতে পারছি না। প্রশাসন আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে, এজন্য আমরা কৃতজ্ঞ।”