জেনারেটর থাকলেও তেলের অভাবে অচল

তানোরে তীব্র লোডশেডিংয়ে হাসপাতালে রোগীদের চরম দুর্ভোগ

মো: ইমরান হোসাইন; তানোর, রাজশাহী | প্রকাশ: ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৬:৩৫ পিএম
তানোরে তীব্র লোডশেডিংয়ে হাসপাতালে রোগীদের চরম দুর্ভোগ
রাজশাহীর তানোরে বিদ্যুতের তীব্র লোডশেডিংয়ের কারণে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে (সরকারি হাসপাতাল) চিকিৎসাধীন রোগীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সরকারি এই হাসপাতালে সার্বক্ষণিক বিদ্যুতের বিকল্প হিসেবে জেনারেটর থাকলেও সেটিতে তেলের বরাদ্দ অপ্রতুল। একারণে সার্বক্ষণিক সচল রাখা সম্ভব হয় নাজেনারেটর । তবে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি- বিদ্যুতের তীব্র লোডশেডিং আছে। কিন্তু চলে গেলে জেনারেটর চালানো হয়। কিন্তু ভুক্তভোগী রোগী ও স্বজনদের দাবি, বিদ্যুৎ চলে গেলে ঘন্টার পর ঘন্টা ধরে অন্ধকারে থাকতে হয়। হাসপাতালে জেনারেটর আছে বলে মনে হয় না। রোববার সরেজমিনে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, গত কয়েকদিন ধরে তানোরে দিন-রাত মিলিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা নেসকোর বিদ্যুতের লোডশেডিং হচ্ছে। তীব্র গরমে হাসপাতালের প্রতিটি ওয়ার্ড যেন একেকটি চুল্লিতে পরিণত হয়েছে। বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর হাসপাতালের ফ্যানগুলো পুরোপুরি বন্ধ থাকে। হাতে টানা পাখার বাতাসেও রোগীদের স্বস্তি আসে না। ফলে তীব্র গরমে রোগীরা আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। নিরুপায় হয়ে রোগীদের স্বজনরা হাতপাখা দিয়ে বাতাস করছেন। অপরদিকে, অন্ধকার ওয়ার্ডে রাতের বেলা লোডশেডিং হলে পুরো হাসপাতাল অন্ধকারে ডুবে যায়। মোমবাতি বা মোবাইলের ফ্ল্যাশলাইট জ্বালিয়ে চলছে চিকিৎসা। হাসপাতালে ভর্তি থাকা গুবিরপাড়া গ্রামের এমরান নামের এক রোগী জানান, গরমে সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছে ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশু রোগীরা। তাদের কান্নায় হাসপাতালের পরিবেশ ভারী হয়ে উঠছে। হাসপাতালেরই একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, লোডশেডিংয়ের সময় রোগীদের স্বস্তি দিতে একটি ভারী জেনারেটর রয়েছে। কিন্তু জ্বালানি তেল (ডিজেল) কেনার পর্যাপ্ত বাজেট বা বরাদ্দ নেই। ফলে জেনারেটরটি অলস পড়ে আছে এবং রোগীরা গরমে ছটফট করছেন। ভুক্তভোগী রোগীদের অভিযোগ, "সরকারি হাসপাতালে কোটি টাকার জেনারেটর কিনে রাখা হয়েছে কেবল দেখানোর জন্য, আমাদের কষ্টের দিনে তা কোনো কাজে আসছে না। জেনারেটর বন্ধ থাকা এবং রোগীদের দুর্ভোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) বার্নাবাস হাসদাক ভিন্ন কথা জানান। তিনি রোগীদের দুর্ভোগের বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে দাবি করেন, "হাসপাতালে লোডশেডিং হলেও রোগীদের সেবায় কোনো ঘাটতি হচ্ছে না। জেনারেটর সচল রাখার জন্য তেলের কোনো সংকট নেই। নিয়ম অনুযায়ীই সবকিছু চালানো হচ্ছে। রোগীদের দুর্ভোগের বিষয়টি সঠিক নয়। তবে, টিএইচও জেনারেটর সচল থাকার দাবি করলেও বাস্তবের চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো। স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগীরা অবিলম্বে তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এই অচলাবস্থা নিরসন এবং রোগীদের দুর্ভোগ লাঘবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। 
আপনার জেলার সংবাদ পড়তে