কিশোরগঞ্জে ভুয়া নিয়োগে এমপিওভুক্ত অর্ধশতাধিক শিক্ষক-কর্মচারী

এফএনএস (আব্দুর রাজ্জাক, নীলফামারী) : | প্রকাশ: ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০১:৪২ পিএম
কিশোরগঞ্জে ভুয়া নিয়োগে এমপিওভুক্ত অর্ধশতাধিক শিক্ষক-কর্মচারী

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে বিভিন্ন মাদ্রাসায় ভুয়া নিয়োগে অর্ধশতাধিক শিক্ষক-কর্মচারী এমপিওভুক্তির অভিযোগ উঠেছে। এক মাদ্রাসায় ১৮ জনের এমপিওভুক্তসহ ২৩ জনের জাল সনদ ও অবৈধ নিয়োগের তথ্য পাওয়া গেছে। পতিত সরকারের সময়ে দেখানো নিয়োগে ওই মাদ্রাসার বাকি ৫জনেরও এমপিওভুক্তির চেষ্টা চলছে। এভাবে সৃজনকৃত নিয়োগে এমপিওভুক্ত করে জালিয়াতি চক্র কোটি-কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। 

অনুসন্ধানে জানা যায়, মাদ্রাসা সুপার/অধ্যক্ষের যোগসাজশে চক্রটি ব্যাকডেটে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির ভুয়া পেপারকাটিং তৈরী করে। চাকুরী প্রত্যাশীর কাছ থেকে কর্মচারী পদে ৮-৯ লাখ ও শিক্ষক পদে ১৪-১৫ লাখ করে টাকা নেয়। ডিজি’র নমিনি ও কমিটির সভাপতিসহ সংশ্লিষ্টদের জাল স্বাক্ষরে নিয়োগের কাগজ-পত্র প্রস্তুত করা হয়। এভাবে নিবন্ধনহীন ২০০৫ সাল ও জাল নিবন্ধনে ২০১৬ সালের আগে তারা অনেককে শিক্ষক পদে নিয়োগ দেখায়। পরে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে নিয়োগের ফাইল মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠিয়ে এমপিওভুক্ত করায়। 

জালিয়াতি চক্রের মাধ্যমে বড়ভিটা আফজালুল উলুম ফাজিল মাদ্রসায় ১৮ জন শিক্ষক-কর্মচারী এমপিওভুক্তির অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া আ’লীগ সরকারের সময়ে দেখানো নিয়োগে আরও ৫জনকে এমপিওভুক্তির জন্য জালিয়াতি চক্র এখন রাজনৈতিক খোলস পরিবর্তন করেছে। এসব নিয়োগধারীর নাম এমপিওভুক্তিতে উপজেলা বিএনপি’র এক নেতার তদবির ও জামায়াত এমপি’র ডিও লেটারে সুপারিশের তথ্য মিলেছে। গ্রন্থাগার প্রভাষক পদে একজনকে ২০১৫ সালে, অফিস সহকারী কাম হিসাব সহকারী পদে একজনকে ২০২৪ সালে ও ল্যাব সহকারী পদে ৩ জনকে ২০২৩ সালের নিয়োগ দেখানো হয়েছে। 

এর আগের মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সময়ও জালিয়াতি চক্রের মাধ্যমে নিয়োগকৃত বিভিন্ন মাদ্রসায় ১৫-২০ জনের এমপিওভুক্তি হয়। তবে দায়িত্ব হস্তন্তরের সময় তিনি ৫টি মাদ্রাসার ১৭ জনের তালিকায় সৃজনকৃত, জাল ও ভুয়া নিয়োগের মন্তব্য উল্লেখ করে রিসিভ কপি নেন। সেই তালিকায় রয়েছে, কালিকাপুর দাখিল মাদ্রাসার সহকারী মৌলভী শিক্ষক ও কম্পিউটার শিক্ষক। কিশোরগঞ্জ কেশবা ফাযিল মাদ্রাসার জীব বিজ্ঞানের প্রভাষক, নৈশ প্রহরী, ১জন জুনিয়র মৌলভী শিক্ষক ও ২জন সহকারী মৌলভী শিক্ষক। বড়ভিটা আফজালুল উলুম ফাযিল মাদ্রাসার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির প্রভাষক, ইংরেজির সহকারী শিক্ষক, অফিস সহকারী, এমএলএসএস ও আয়া। চাঁদখানা বড়িরহাট এইউ দাখিল মাদ্রাসার সহকারী বাংলা শিক্ষক, নিরাপত্তা প্রহরী, আয়া ও ভেড়ভেড়ী কামাল উদ্দিন দাখিল মাদ্রাসার সমাজ বিজ্ঞানের সহকারী শিক্ষক। এদের মধ্যে অনেকে বর্তমান মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সময়ে এমপিওভুক্ত হয়েছেন। 

এ ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফ-উজ-জামান সরকার জানান, নিয়োগ জালিয়াতি চক্রের সঙ্গে তার কোন সম্পৃক্ততা নেই। তবে ওই ফাজিল মাদ্রাসায় আগের দেখানো নিয়োগে ৫জনের আবেদন ফাইল অনলাইন মাধ্যমে অফিসে দিয়েছে। এসব ফাইল এমপিওভুক্তির জন্য মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠাতে একাধিক পক্ষ চাপ দিচ্ছে। এদিকে আ’লীগের সাবেক এমপি গোলাম মোস্তফা বড়ভিটা আফজালুল উলুম ফাজিল মাদ্রাসার সভাপতি থাকাকালীন গ্রন্থাগার প্রভাষক পদে একজনকে নিয়োগ দেখানো হয়। তার এমপিওভুক্তির জন্য ডিও লেটার প্রদানের বিষয়ে নীলফামারী-৪ আসনের এমপি হাফেজ আব্দুল মুনতাকিম এর সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য জানা যায়নি।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে