চোরাই স্বর্ণের কেনাবেচা ও স্বর্ণকে কেন্দ্র করে সংঘটিত অপরাধ প্রতিরোধে নাটোরের লালপুরে জুয়েলার্স ব্যবসায়ীদের সচেতন করতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে লালপুর থানা পুলিশ। উপজেলার বিভিন্ন জুয়েলার্সের দোকান পরিদর্শন করে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক স্টিকার লাগানোর পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের দেওয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল উপজেলার বিভিন্ন জুয়েলার্সের দোকানে এ কার্যক্রম পরিচালনা করে।
পুলিশের লাগানো সচেতনতামূলক স্টিকারে লেখা রয়েছে- “স্বর্ণ বা অলংকার বন্ধক রেখে আর্থিক লেনদেন আইনবহির্ভূত কাজ। এ ধরনের লেনদেন থেকে বিরত থাকুন।” পাশাপাশি প্রয়োজনবোধে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ সময় পুলিশ ব্যবসায়ীদের স্বর্ণ বা অলংকার ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে বিক্রেতার পূর্ণ পরিচয়, ঠিকানা, মোবাইল নম্বরসহ লেনদেনের বিস্তারিত তথ্য যথাযথভাবে রেজিস্টারে সংরক্ষণের নির্দেশনা দেয়। পুলিশের মতে, এতে চোরাই স্বর্ণের কেনাবেচা কিংবা কোনো অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠলে দ্রুত তথ্য যাচাই-বাছাই করা সম্ভব হবে।
লালপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, “চোরাই স্বর্ণের কেনাবেচা এবং স্বর্ণকে কেন্দ্র করে সংঘটিত অপরাধ প্রতিরোধে ব্যবসায়ীদের সচেতন করা হচ্ছে। প্রতিটি লেনদেনে বিক্রেতার পরিচয় নিশ্চিত করে প্রয়োজনীয় তথ্য রেজিস্টারে সংরক্ষণ করতে হবে। পাশাপাশি স্বর্ণ বা অলংকার বন্ধক রেখে কোনো ধরনের অবৈধ আর্থিক লেনদেন না করার জন্য ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, উপজেলার সব ভাঙারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকেও পর্যায়ক্রমে এ কার্যক্রমের আওতায় আনা হবে। প্রতি সপ্তাহে বিট পুলিশ কর্মকর্তারা জুয়েলার্সসহ সংশ্লিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে লেনদেনের রেজিস্টার নিয়মিত তদারকি করবেন।
ওসি বলেন, কোনো ধরনের সন্দেহজনক লেনদেন, ব্যক্তি বা কর্মকাণ্ড নজরে এলে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে অবহিত করতে হবে। অপরাধ প্রতিরোধ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ব্যবসায়ী ও পুলিশের পারস্পরিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পুলিশের নিয়মিত নজরদারি ও ব্যবসায়ীদের সচেতনতার মাধ্যমে চোরাই স্বর্ণের কেনাবেচা এবং স্বর্ণকেন্দ্রিক অপরাধ অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।