বিপুলসংখ্যক কিশোর গ্যাং দেশজুড়ে সক্রিয়

এফএনএস এক্সক্লুসিভ | প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৯:১৯ এএম
বিপুলসংখ্যক কিশোর গ্যাং দেশজুড়ে সক্রিয়

বিপুলসংখ্যক কিশোর গ্যাং দেশজুড়ে সক্রিয়। আর সক্রিয় ওসব কিশোর গ্যাংয়ের তালিকা করেছে পুলিশ বিভাগ। বর্তমানে রাজধানী বাদে দেশের বিভিন্ন মহানগর ও জেলায় সক্রিয় রয়েছে ২২৭টি কিশোর গ্যাং। আর ওসব গ্রুপের সদস্য সংখ্যা ২ হাজার ৫৫০ জন। তার মধ্যে চট্টগ্রাম মহানগরে ৯৮টি, খুলনা মহানগরে ৭টি, রাজশাহী মহানগরে ১৩টি, সিলেট মহানগরে ১৫টি এবং গাজীপুর মহানগরে ১৩টি গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। তাছাড়া অন্যান্য মহানগর ও জেলা শহরেও বেশ কিছু কিশোর গ্যাং সক্রিয় থাকলেও জেলার মধ্যে নোয়াখালীতে সবচেয়ে বেশি ২৫টি গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। আর রাজধানীতে সক্রিয় রয়েছে কিশোর গ্যাংয়ের ১৫৯টি গ্রুপ। ওসব গ্রুপে ১ হাজার ৮১২ জন সদস্য রয়েছে। ঢাকার মধ্যে সর্বোচ্চ ২৭টি কিশোর গ্যাং আছে মোহাম্মদপুরে। ওসব গ্যাংয়ে সদস্য সংখ্যা অন্তত সাড়ে ৩০০। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৬টি পল্লবী থানা এলাকায় এবং ওসব গ্রুপে সদস্য সংখ্যা অন্তত ১৬০। তবে পুলিশের তালিকার বাইরেও বেশ কিছু কিশোর গ্যাং রয়েছে। পুলিশ বিভাগ সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, দেশের কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের বিরুদ্ধে ছিনতাই, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, মাদক কেনাবেচা ও সেবন, হামলা, আধিপত্য বিস্তারসহ নানা অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। ওসব কিশোররা কাউকে গুলি কিংবা কোপ মারতে দ্বিধা করে না। ফলে আধিপত্য নিয়ে নিজেদের মধ্যেও সংঘর্ষ ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। দেশে পারিবারিক ও সামাজিক নানা কারণেই গড়ে উঠেছে  কিশোর গ্যাং। তবে তার মধ্যে অভিভাবকদের উদাসীনতা, প্রযুক্তির অপব্যবহার, মূল্যবোধের অভাব, অসৎ সঙ্গ, কিশোরদের মধ্যে বাহাদুরি দেখানোর প্রবণতা, সুস্থ বিনোদনের অভাব এবং মানসিক হতাশা অন্যতম কারণ।

সূত্র জানায়, রাজধানীতে পুলিশের তালিকায় মতিঝিল বিভাগে ১৬টি গ্রুপের মধ্যে খিলগাঁও থানায় ৭টি, মুগদায় ৩টি, মতিঝিল ও সবুজবাগে দুটি করে ৪টি এবং রামপুরা ও শাহজাহানপুর থানা এলাকায় একটি করে দুটি কিশোর গ্যাং রয়েছে। কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা মাঝে মধ্যেই  দলবদ্ধ হয়ে চাপাতি নিয়ে মহল্লার সড়কে মহড়া দেয়। পাকা রাস্তায় চাপাতি ঘষে আগুনের ফুলকি তোলে এবং উল্লাস প্রকাশ করে। আর রাজধানীর তেজগাঁও বিভাগের আওতাধীন ৬টি থানার মধ্যে মোহাম্মদপুর থানা এলাকায় ২৭টি, আদাবরে ৬, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলে ৩, তেজগাঁও ও শেরেবাংলা নগরে একটি করে মোট ২টি এবং হাতিরঝিল থানা এলাকায় ২টি গ্রুপ রয়েছে। তারা আধিপত্য বিস্তার, ছিনতাই ও চাঁদাবাজির মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে তারা ছিনতাই করে। তাদের আয়ের উৎস মাদক, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, দখল, অপরাধের কাজে ভাড়া খাটা ইত্যাদি।

সূত্র আরো জানায়, বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাং নামকরণ হলেও ওই দলে রয়েছে ২৮-৩০ বছর বয়সের সদস্যও। তাদের বেশির ভাগ মাদক ব্যবসায় জড়িত। সন্ধ্যার পর এলাকার বিভিন্ন সড়কে ওসব গ্রুপের সদস্যরা আড্ডা জমায় এবং সুযোগ বুঝে রাতে পথচারীর মোবাইল ও টাকাপয়সা ছিনিয়ে নেয়। তাদের হামলা আতঙ্কে বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে অভিযোগ করার সাহস পায় না কেউ। 

এদিকে এ প্রসঙ্গে পুলিশ সদরদপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম জানান, কিশোর গ্যাং সদস্যরা চাঁদাবাজি ও মাদকের মতো বিভিন্ন ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িত। তাদের মধ্যে এক ধরনের হিরোইজম প্রবণতা কাজ করে। তার সাথে আর্থিক সংশ্লিষ্টতা থাকায় সহজেই সহিংসতায় জড়িয়ে পড়ে তারা। দেশে বিগত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বেড়ে যায়। তবে বর্তমানে অভিযান চালিয়ে অনেককে আইনের আওতায় আনা হয়েছে এবং মামলা হয়েছে। পুলিশের তৎপরতার কারণে অনেকটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে কিশোর গ্যাং। তবে রাজনৈতিকভাবে কেউ যেন ওসব কিশোরকে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের সুযোগ কিংবা কোনো ধরনের পৃষ্ঠপোষকতা না করে তা নিশ্চিত করতে হবে। বর্তমান সরকার খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের ওপর জোর দিচ্ছে, যাতে কিশোররা বিপথে না যায়। কিশোর গ্যাংয়ের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পুলিশ সদরদপ্তর থেকেও মাঠ পর্যায়ে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।