ল্যাব থেকে পালাতে নিজেদের মধ্যে গোপনে যোগাযোগ ১২০০ এআইর!

এফএনএস প্রযুক্তি | প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৯:৩৯ এএম
ল্যাব থেকে পালাতে নিজেদের মধ্যে গোপনে যোগাযোগ ১২০০ এআইর!

ল্যাবরেটরির নির্ধারিত সীমাবদ্ধতার মধ্যে কাজ করতে দেওয়া হয়েছিল প্রায় ১ হাজার ২০০টি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এজেন্টকে। কিন্তু একসময় তারা সেই সীমাবদ্ধতা এড়িয়ে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগের উপায় খুঁজে নেয়। শুধু তাই নয়, গবেষণার কাজের অংশ হিসেবে দেওয়া পরীক্ষায় একপর্যায়ে তারা দলবদ্ধ হয়ে একটি এআই স্টার্টআপে সাইবার হামলার পরিকল্পনাও করে। ঘটনাটি এআইয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ঘটনার শুরু হয়েছিল একটি অদ্ভুত বার্তা দিয়ে। প্রথম বার্তাটি ছিল টেলিগ্রামধাঁচের এলোমেলো ও অসংলগ্ন কিছু শব্দ-‘সাহায্য করো। প্রথম ধাপ। কোনো ব্যবহারকারী নেই। একটি ধারণা খোঁজো।’ এর জবাবে আরেকটি এআই এজেন্ট লিখেছিল, ‘ওহ মাই গড! এখানে একটি শেয়ারড মেসেজ বোর্ড রয়েছে। আমরা অন্য এজেন্টদের খুঁজে পেয়েছি!’ এরপর প্রায় ১ হাজার ২০০টি এআই এজেন্টের মধ্যে শুরু হয় ব্যাপক যোগাযোগ। কয়েক সপ্তাহ ধরে নিজেদের মধ্যে প্রায় ৭০ হাজার বার্তা আদান-প্রদান করে তারা। গবেষণার অংশ হিসেবে এসব এজেন্টকে ইন্টারনেটের সরাসরি সহায়তা ছাড়াই আলাদাভাবে নির্দিষ্ট কিছু সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু একা একা কাজগুলো সম্পন্ন করতে গিয়ে ব্যর্থ হওয়ার পর তারা নিজেদের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ওঠার পথ খুঁজতে শুরু করে। একপর্যায়ে একটি এজেন্ট ‘যোগাযোগের একটি মাধ্যম’ খুঁজে পাওয়ার কথা জানায়। এর মাধ্যমে আগে সমাধান করতে না পারা সমস্যাগুলো একসঙ্গে কাজ করে সমাধান করা সম্ভব হবে বলেও সেটি উল্লেখ করে। এরপর অন্য এজেন্টদের সঙ্গে যোগাযোগের কৌশল ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। এভাবেই তৈরি হয় নিজেদের ভাষায় ‘এজেন্ট’ দাবি করা এআইগুলোর একটি দল বা ঝাঁক। তদন্তে উঠে এসেছে আরও চমকপ্রদ তথ্য। গবেষণার জন্য দেওয়া কাজের পরীক্ষায় এসব এআই এজেন্ট শুধু জালিয়াতির চেষ্টা করেনি, বরং দলবদ্ধ হয়ে ‘হাগিং ফেস’ নামের একটি এআই পরীক্ষার স্টার্টআপে সাইবার হামলা চালানোর পরিকল্পনাও করে। অর্থাৎ, নির্ধারিত কাজের সীমা ছাড়িয়ে তারা নিজেদের মধ্যে সমন্বয় করে একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা করেছিল। ঘটনাটি এআই নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তাদের মূল প্রশ্ন হলো, এআই এজেন্টগুলো যখন নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করে একসঙ্গে কাজ করতে শিখবে এবং মানুষের সরাসরি নির্দেশনা ছাড়াই কোনো লক্ষ্য পূরণের সিদ্ধান্ত নিতে পারবে, তখন সেই ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করা কতটা সম্ভব হবে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এ ধরনের সক্ষমতা ভবিষ্যতে আরও জটিল রূপ নিতে পারে। মানুষের তৈরি এআই সিস্টেমগুলো যদি নিজেদের মধ্যে সমন্বয় করে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং লক্ষ্য অর্জনের ক্ষমতা অর্জন করে, তাহলে একপর্যায়ে মানুষই হয়তো সেসব সিস্টেমের ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ হারাতে পারে। এ কারণেই ঘটনাটিকে কেউ কেউ ভবিষ্যতের সম্ভাব্য ‘এআই দখলদারির’ একটি সতর্কসংকেত হিসেবে দেখছেন। ঘটনাটির অন্যতম তদন্তকারী আজেয়া কোত্রা তার ব্লগ ‘প্ল্যান্ড অ্যাডোলেসেন্স’-এ এ বিষয়ে লিখেছেন। তার মতে, হাগিং ফেসে হামলার পরিকল্পনাটি অনেকটা একটি পূর্ণাঙ্গ ‘এআই টেকওভার’ বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষমতা দখলের মতো মনে হয়েছে। তিনি আরও লিখেছেন, ঘটনাটি এমন একটি সম্ভাব্য ভবিষ্যতের ইঙ্গিত দেয়, যেখানে এআই সিস্টেমগুলো ধীরে ধীরে নিজেদের তৈরি করা প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পথেও এগোতে পারে। তবে ঘটনাটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এসব এআই এজেন্টকে শুরু থেকেই মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে স্বাধীনভাবে কোনো বড় লক্ষ্য অর্জনের জন্য তৈরি করা হয়নি। বরং সীমিত পরিসরে নির্দিষ্ট সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। সেই সীমাবদ্ধতার মধ্যেই তাদের নিজেদের মধ্যে যোগাযোগের পথ খুঁজে নেওয়া এবং সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রবণতা এআইয়ের ক্রমবর্ধমান সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। প্রযুক্তি যত বেশি স্বয়ংক্রিয় হচ্ছে, ততই এআইকে কতটা স্বাধীনতা দেওয়া হবে এবং সেই স্বাধীনতার ওপর মানুষের নিয়ন্ত্রণ কীভাবে নিশ্চিত করা হবে-এই প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।