রাজশাহী রেঞ্জের সেরা তদন্ত কর্মকর্তা শেরপুর থনার জয়নুল আবেদীন

এফএনএস (সৌরভ অধিকারী শুভ; শেরপুর, বগুড়া) : | প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০১:৩৯ পিএম
রাজশাহী রেঞ্জের সেরা তদন্ত কর্মকর্তা শেরপুর থনার জয়নুল আবেদীন

বগুড়ার শেরপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জয়নুল আবেদীন ২০২৬ সালের আগস্ট মাসের ‘বেস্ট ইনভেস্টিগেটিং অফিসার’ হিসেবে বিশেষ সম্মাননা ও পুরস্কার লাভ করেছেন। একটি চাঞ্চল্যকর ক্লুলেস শিশু হত্যা এবং চুরির মামলার রহস্য অত্যন্ত দ্রুততম সময়ে ও দক্ষতার সাথে উদঘাটন করায় তাকে এই স্বীকৃতি প্রদান করা হয়।

সোমবার রাজশাহী রেঞ্জের উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক (ডিআইজি) মোঃ আশিক সাঈদ তার কার্যালয়ে জয়নুল আবেদীনের হাতে এই পুরস্কার তুলে দেন। এর আগে গতকাল রবিবার বগুড়া জেলার পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদও তাকে এই কৃতিত্বের জন্য বিশেষ সম্মাননা প্রদান করেন।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, গত ৪ আগস্ট শেরপুর থানার ররোয়া পশ্চিমপাড়া গ্রামের ৯ বছর বয়সী শিশু রাজু হোসেন নিখোঁজ হয়। বাদীর প্রতিবেশী মোত্তাকিন (২২) বিস্কুট ও চকোলেটের প্রলোভন দেখিয়ে একটি ব্যাটারিচালিত মিশুক গাড়িতে করে শিশুটিকে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। পরে চুরির ঘটনা জানাজানি হওয়ার ভয়ে মোত্তাকিন ও তার সহযোগী আব্দুল করিম (৪২) মিলে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ থানার গাবরগাড়ী গ্রামের একটি ধান ক্ষেতে শিশু রাজুকে শ্বাসরোধ করে এবং কাদার নিচে মাথা চেপে ধরে নির্মমভাবে হত্যা করে লাশ গুম করে।

তদন্তকারী কর্মকর্তা জয়নুল আবেদীন মামলাটির দায়িত্বভার গ্রহণের পর কোনো ক্লু না থাকা সত্ত্বেও তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তা ও কল ডিটেইল রেকর্ড (সিডিআর) পর্যালোচনা করে আসামিদের শনাক্ত করেন। তার নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ থেকে মূল আসামি মোত্তাকিন এবং শেরপুর থেকে আব্দুল করিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ধান ক্ষেত থেকে শিশু রাজুর মরদেহ উদ্ধার এবং লুণ্ঠিত মিশুক গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ জব্দ করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত আসামি মোত্তাকিন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে হত্যাকাণ্ডের রোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছে। চাঞ্চল্যকর এই ক্লুলেস মামলার রহস্য উদঘাটন এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনায় জয়নুল আবেদীনের পেশাদারিত্ব পুলিশ বিভাগে প্রশংসিত হয়েছে এবং এরই প্রেক্ষিতে তাকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে