রংপুরে ৪ খুন

ডিএনএ পরীক্ষার জন্য আসামি মুগ্ধ-সিদ্ধার্থকে নেওয়া হবে ঢাকায়

এফএনএস (মমিনুল ইসলাম রিপন; রংপুর) : | প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:০১ এএম
ডিএনএ পরীক্ষার জন্য আসামি মুগ্ধ-সিদ্ধার্থকে নেওয়া হবে ঢাকায়

রংপুরে নগরীতে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই আসামি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে ডিএনএ পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহের জন্য ঢাকায় নেওয়া হচ্ছে। সোমবার তাদের দুজনকে ঢাকায় সিআইডি কার্যালয়ে নেওয়া হবে। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে, রোববার রাতে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আসামিদের ঢাকার উদ্দেশ্যে পাঠানোর জন্য রংপুর কারাগার থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে নেওয়া হয়। উপ-পুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় ক্রাইমসিন থেকে পাওয়া আলামত ফরেনসিকের জন্য পাঠানো হয়েছে। এখন ডিএনএ পরীক্ষার জন্য আসামি মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থের নমুনা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, আসামিদের নমুনার সাথে হত্যাকাণ্ডের শিকার গণপতি স্যারের পরিবারের সদস্যদের নমুনা ও অন্যান্য আলামত ম্যাচিং করা হবে। এর মাধ্যমে ঘটনাস্থলে আসামিদের উপস্থিতি বা তাদের সঙ্গে কোনো আলামতের জৈবিক সম্পর্ক ছিল কিনা, তা যাচাই করা হবে।

সিআইডি ও তদন্ত সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডের শিকার শিক্ষক পরিবারের সদস্যদের মরদেহ উদ্ধার কার্যক্রমের সময় ঘটনাস্থল থেকে ৩৫টি আলামত সংগ্রহ করেছিল সিআইডি। ঘটনার ১২দিন পর তিন দফায় সেগুলো ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। এসবের মধ্যে ফল কাটার চাকু, ইয়াবা সেবনের ফয়েল, সিগারেটের শেষাংশ, নান রুটি, শসা ও খেজুর, বেসিনের দাগ, নিহত শিশু প্রিয়মের খাতায় পাওয়া একটি লেখাসহ সংগ্রহ করা ৩৫টি আলামত রয়েছে।  

প্রসঙ্গত, গত ২২ আগস্ট রাতে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া (দাসপাড়া) এলাকায় তালাবদ্ধ একটি বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলেসহ একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় একই এলাকা থেকে প্রতিবেশী মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়।

নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে কোতয়ালী থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। আসামিরা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। এছাড়াও, গত ১ ও ২ সেপ্টেম্বর আসামি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে জেলগেটে ৩ ঘণ্টা করে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডে আসামিদের বন্ধু সীমান্ত দাস ও দখিগঞ্জ শশ্মানের পাহারাদার বিদ্যুৎ মোহন্ত এবং মাদক সরবরাহকারী শান্ত দাস ওরফে পুঁটি শান্ত সাক্ষী হিসেবে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলাটি বর্তমানে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরপিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ তদন্ত করছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে