রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে পরপর দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে মোঃ সাখাওয়াত হোসেন রায়হান (৩২) ও মোঃ সাইমুন (২৩) নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) শাহজাহানপুর থানা পুলিশ।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ এ তথ্য জানান।
পুলিশ জানায়, ১৯ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ১০টা ৩৭ মিনিটে কমলাপুর রেলস্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মের ২৯ ও ৩০ নম্বর পিলারের মধ্যবর্তী স্থানে পরপর দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের পর রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
ঘটনার পর জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে শাহজাহানপুর থানা পুলিশ গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ এবং বিশ্বস্ত সোর্সের মাধ্যমে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনায় সরাসরি জড়িতদের শনাক্ত করা হয়। পরে অভিযান চালিয়ে রায়হান ও সাইমুনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন রায়হান বাংলাদেশ রেলওয়ের কমলাপুর রেলস্টেশনের এমওডি শাখায় ইলেকট্রিশিয়ান হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি শাহজাহানপুর থানা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক।
অপর গ্রেপ্তার মোঃ সাইমুন শাহজাহানপুর থানা এলাকার যুবলীগের সক্রিয় কর্মী বলে জানিয়েছে পুলিশ।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দুজন ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়ে তথ্য দিয়েছেন। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এ ঘটনায় আরও কয়েকজনের নাম ও পরিচয় পাওয়া গেছে। তাদের বিষয়ে যাচাই-বাছাই চলছে এবং গ্রেপ্তারে শাহজাহানপুর থানা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জনমনে ভীতি সৃষ্টি, লকডাউন সফল করা এবং নিজেদের অবস্থান জানান দেওয়ার উদ্দেশ্যে কমলাপুর রেলস্টেশনে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছিল।
এ ঘটনায় বাংলাদেশ রেলওয়ের অধিক্ষেত্র হওয়ায় ঢাকা রেলওয়ে থানায় মামলা করা হয়েছে। মামলাটি ২০ সেপ্টেম্বর রুজু হয়।
ডিসি মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ জানান, গ্রেপ্তার দুজনকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তারা অন্য কোনো ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িত কি না, জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তা জানা যাবে। একই সঙ্গে তাদের সঙ্গে আরও যারা জড়িত, তাদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
তিনি বলেন, একটি ঘটনায় কেউ অর্থায়ন করে, কেউ সমন্বয় করে, কেউ ককটেল নিক্ষেপ করে আবার কেউ ঘটনার ভিডিও ধারণ করে। এসব বিষয় যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে একের পর এক নাশকতার ঘটনায় পুলিশি তৎপরতা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে ডিসি হারুন বলেন, ঢাকা একটি মেগাসিটি। নিয়মিত জনসভা, মিছিল-মিটিং ও বিভিন্ন কর্মসূচির পাশাপাশি নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্যদের নানা ধরনের কর্মকাণ্ড মোকাবিলা করতে হচ্ছে পুলিশকে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নিয়মিত অভিযান ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
গোয়েন্দা ব্যর্থতা রয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পুলিশের অধিকাংশ কার্যক্রমই গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে। পাশাপাশি নিয়মিত কার্যক্রমও চলছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নিয়মিত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।