রিমান্ড শেষে কারাগারে এমপি গাজী নজরুলের প্রথম স্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৫:৫১ পিএম
রিমান্ড শেষে কারাগারে এমপি গাজী নজরুলের প্রথম স্ত্রী

আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় এক দিনের রিমান্ড শেষে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলামকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেনের আদালত এই আদেশ দেন।

মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মাকসুদাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। শুনানি শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আদালতে দেওয়া আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, মাকসুদাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের সময় মামলাসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। এসব তথ্য তদন্তে সহায়ক হবে বলে আবেদনে বলা হয়। মাকসুদার পক্ষে আদালতে কোনো আবেদন করা হয়নি।

এর আগে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) মাকসুদা ইসলামের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। একই মামলায় তার স্বামী গাজী নজরুল ইসলামকে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়।

মামলাটি করা হয়েছে ১৯ বছর বয়সী মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর ঘটনায়। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ওই রাতেই গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।

মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলাম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় দণ্ডবিধির ৩০৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

এজাহারে বলা হয়েছে, গত জুনে ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে মরিয়মের বিয়ে হয়। সংসদ সদস্য হওয়ায় গাজী নজরুল, তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ও মরিয়ম সংসদ ভবনের বিপরীতে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এলাকার ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের ২০৩ নম্বর বাসায় থাকতেন।

মামলার বাদীর অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গাজী নজরুল ও মাকসুদা মরিয়মকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন। মরিয়ম বিভিন্ন সময় এসব বিষয়ে তার পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছিলেন বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, গাজী নজরুলের সঙ্গে মরিয়মের বিয়েতে তার মামা ওবায়দুর রহমানের প্রত্যক্ষ প্ররোচনা ছিল।

বাদীর দাবি, রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে গাজী নজরুল মোবাইল ফোনে তাকে দ্রুত বাসায় যেতে বলেন। বাসায় পৌঁছে তিনি দেখতে পান, ভেতরের একটি কক্ষে মরিয়ম ওড়না দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ঝুলে আছেন। পরে শেরেবাংলা নগর পুলিশের সহায়তায় দরজা ভেঙে মরিয়মের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, মরিয়মের বিছানার ওপর তার নিজের লেখা একটি ‘সুইসাইড নোট’ পাওয়া যায়। বাদীর অভিযোগ, আসামিদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে এবং তাদের প্ররোচনায় মরিয়ম আত্মহত্যা করেছেন।

তবে মামলায় করা এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো তদন্তাধীন। রিমান্ডে পাওয়া তথ্য ও অন্যান্য আলামত যাচাই করে ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং আসামিদের সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

মরিয়মের মৃত্যুর আগে গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে আরেকটি ঘটনাও আলোচনায় আসে। গত জুলাইয়ে মরিয়মের সঙ্গে তার ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ কয়েকটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ২২ জুলাই গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সাংগঠনিক তদন্তে তার নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ার কথা জানিয়ে দলটির গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাকে বহিষ্কার করা হয়। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনকেও বিষয়টি জানানো হয়।

ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর অনৈতিক সম্পর্কের প্রতিবাদ এবং ভিডিও ফাঁসের সন্দেহে মারধর ও শ্বাসরোধ করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ২১ জুলাই পল্লবী থানায় একটি মামলা করেন গাড়িচালক ও মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমান। ওই মামলায় হাইকোর্ট থেকে ১০ আগস্ট গাজী নজরুল ইসলাম আট সপ্তাহের জামিন পান। এবার মরিয়মের আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় সেই ওবায়দুর রহমানকেই আসামি করা হয়েছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে