ঋতুচক্রে শরৎ এলেও প্রকৃতিতে যেন বর্ষারই আবহ। কয়েকদিন ধরে নীলফামারীর সৈয়দপুরে কখনো প্রচণ্ড রোদের তাপ, আবার কখনো দমকা হাওয়ার সঙ্গে ভারি বৃষ্টিপাত হচ্ছে। বৈচিত্র্যময় এই আবহাওয়ায় জনজীবনেও পড়েছে প্রভাব। কয়েকদিনের তীব্র তাপদাহে দিনের বেলায় শহরের ব্যস্ততা অনেকটাই কমে গেলেও গতকাল থেকে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে শুরু হয়েছে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টিপাত।
শরৎ মানেই একসময় ছিল নীল আকাশ, সাদা মেঘের ভেলা আর বাতাসে দুলতে থাকা কাশফুল। নদীর তীর, পুকুরপাড়, পরিত্যক্ত জমি, বালুময় ডাঙ্গা এমনকি সড়কের পাশেও চোখে পড়ত সারি সারি কাশফুল। শরতের মৃদু বাতাসে সাদা কাশফুলের দোলন প্রকৃতিতে এনে দিত ভিন্ন এক সৌন্দর্য। সেই দৃশ্য উপভোগ করতে ছুটে যেতেন প্রকৃতিপ্রেমী মানুষ। কিন্তু সময়ের সঙ্গে বদলে গেছে সেই চেনা দৃশ্যপট। সৈয়দপুর ও আশপাশের এলাকায় এখন আগের মতো চোখে পড়ে না কাশফুলের বিস্তীর্ণ সমারোহ। নগরায়ণ, পুকুর-জলাশয় ভরাট, পরিত্যক্ত জমির ব্যবহার পরিবর্তন এবং নদ-নদীর স্বাভাবিক গতিপথে পরিবর্তনের কারণে কাশফুলের আবাসস্থলও ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসছে। একসময় নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার বাহাগিলি ডাঙ্গা ছিল কাশফুলের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। শরৎ এলেই পুরো ডাঙ্গা ছেয়ে যেত সাদা কাশফুলে। দূর থেকে দেখলে মনে হতো, বিশাল সবুজের বুকজুড়ে সাদা কাশফুলের সমুদ্র। সেই সৌন্দর্য দেখতে নারী-পুরুষ ও শিশুসহ হাজারো মানুষ সেখানে ভিড় করতেন।
স্থানীয়রানজানান, বাহাগিলির সেই ডাঙ্গার চেহারাও এখন বদলে গেছে। একসময় যেখানে কাশফুলের দোলা দেখা যেত, সেখানে গড়ে উঠেছে বসতবাড়ি, চা-বাগান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থাপনা ও কৃষিজমি। ফলে হারিয়ে গেছে শরতের সেই নান্দনিক প্রাকৃতিক দৃশ্য। প্রকৃতিপ্রেমীদের মতে, কাশফুল শুধু শরতের সৌন্দর্যের প্রতীক নয়, এটি প্রকৃতির একটি স্বাভাবিক উদ্ভিদবৈচিত্র্যের অংশ। নদীর তীর, চরাঞ্চল ও অনাবাদি জমি সংরক্ষণ করা গেলে কাশফুলের বিস্তারও অনেকটা ফিরিয়ে আনা সম্ভব। ঋতুর স্বাভাবিক বৈচিত্র্যেও যেন এসেছে পরিবর্তনের ছাপ। শরতের শুরুতেই কখনো তীব্র তাপদাহ, আবার কখনো দমকা হাওয়া ও ভারি বৃষ্টিপাত প্রকৃতির এই বৈপরীত্য মানুষকে যেমন অবাক করছে, তেমনি হারিয়ে যাওয়া শরতের চেনা রূপও মনে করিয়ে দিচ্ছে।