দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৮৬৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। নতুন এই প্রাণহানির মধ্য দিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০১ জনে। এর মধ্যে শুধু সেপ্টেম্বরেই মারা গেছেন ১০৪ জন, যা চলতি বছরের কোনো এক মাসে সর্বোচ্চ মৃত্যু।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে নতুন রোগীরা হাসপাতালে ভর্তি হন।
নতুন ভর্তি রোগীদের মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ১৭৩ জন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ১৭৯ জন ভর্তি হয়েছেন। ঢাকা বিভাগের সিটি করপোরেশন এলাকার বাইরে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪০৫ জন।
এ ছাড়া বরিশাল বিভাগে ১৭৮ জন, চট্টগ্রামে ৩১৭ জন, খুলনায় ২৮০ জন, ময়মনসিংহে ১১৩ জন, রাজশাহীতে ১৫৬ জন, রংপুরে ৫৯ জন এবং সিলেট বিভাগে আটজন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৬৭ হাজার ৩৬৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ৬২ হাজার ১১৭ জন চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায়ই সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ হাজার ৫৫৭ জন।
নতুন ছয় মৃত্যুর মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগ ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় দুজন করে এবং বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগে একজন করে মারা গেছেন। মৃতদের মধ্যে চারজন পুরুষ ও দুজন নারী।
চলতি বছরের শুরু থেকে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা ২০১ জনে পৌঁছালেও সেপ্টেম্বর মাসেই প্রাণহানি হয়েছে ১০৪ জনের। মাসভিত্তিক হিসাবে এটিই এ বছরের সর্বোচ্চ মৃত্যু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ২০০০ সাল থেকে দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর হিসাব সংরক্ষণ করছে। এর মধ্যে ২০২৩ সালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন সবচেয়ে বেশি ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন। একই বছর ডেঙ্গুতে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয়।
গত বছরও ডেঙ্গুর প্রকোপে চার শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। সে বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছিল প্রায় ১ লাখ ২ হাজার।