গ্রামবাংলার বাড়ির আঙিনা, বাগান কিংবা টবের পরিচিত একটি ফুল দোপাটি। রঙিন ও আকর্ষণীয় এই ফুল খুব সহজেই মানুষের দৃষ্টি কাড়ে। বিশেষ করে বর্ষাকালে সজীব সবুজ পাতার ফাঁকে লাল, গোলাপি, সাদা ও বেগুনি রঙের ফুল ফুটে উঠলে প্রকৃতিতে যোগ হয় ভিন্ন এক সৌন্দর্য। দোপাটি ফুলের ইংরেজি নাম Garden balsam| এছাড়া Rose balsam, Touch-me-not এবং Lady slipper নামেও এটি পরিচিত। এর বৈজ্ঞানিক নাম Impatiens balsamina Ges GwU Balsaminaceae পরিবারের অন্তর্ভুক্ত একটি একবর্ষজীবী সপুষ্পক উদ্ভিদ।
দোপাটি গাছ সাধারণত ৪৫ থেকে ৬০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা হয়, যদিও পরিবেশ ও জাতভেদে এর উচ্চতা আরও কিছুটা বেশি হতে পারে। গাছের কাণ্ড পুরু, নরম ও রসালো। সহজেই ভেঙে যেতে পারে বলে কাণ্ডের এই বৈশিষ্ট্যটি বেশ লক্ষণীয়। গাছ সাধারণত ঝোপালো প্রকৃতির হয়।
এর পাতাগুলো লম্বাটে বা কিছুটা বল্লমাকার। পাতার কিনারা করাতের দাঁতের মতো খাঁজকাটা। সবুজ পাতার সঙ্গে বিভিন্ন রঙের ফুলের সমন্বয় দোপাটি গাছকে করে তোলে অত্যন্ত আকর্ষণীয়। দোপাটি ফুল একক কিংবা দ্বৈত পাপড়ির হতে পারে। ফুলের রং সাদা, গোলাপি, লাল, বেগুনি ইত্যাদি। দ্বৈত পাপড়ির ফুল দেখতে অনেকটা ছোট গোলাপের মতো মনে হয়। এ কারণে বাগানের সৌন্দর্য বাড়াতে এবং বাগানের বর্ডার তৈরিতে দোপাটি গাছ বেশ জনপ্রিয়। দোপাটি সাধারণত গরম ও বর্ষাকালে ভালোভাবে বেড়ে ওঠে এবং এ সময় প্রচুর ফুল ফুটতে দেখা যায়। উষ্ণ ও অনুকূল পরিবেশে বছরের অন্য সময়েও ফুল ফুটতে পারে। বীজ থেকে সহজেই এর চারা জন্মানো যায় এবং বাড়ির আঙিনা, বাগান কিংবা টবেও এটি চাষ করা সম্ভব।
তবে দোপাটি ফুলের সবচেয়ে বিস্ময়কর বৈশিষ্ট্য তার ফলের মধ্যে। ফল পরিপক্ক হলে সামান্য স্পর্শ বা চাপেই এর ফলের খোসা হঠাৎ ফেটে যায় এবং ভেতরের বীজ চারদিকে ছিটকে পড়ে। বীজ ছড়িয়ে দেওয়ার এই বিস্ফোরণধর্মী পদ্ধতির কারণেই ইংরেজিতে দোপাটির একটি প্রচলিত নাম ‘ঞড়ঁপয-সব-হড়ঃ’।
দোপাটি শুধু একটি পরিচিত বাগানফুলই নয় বরং বর্ষার প্রকৃতিতে রঙের এক সুন্দর সংযোজন। নরম কাণ্ড, সবুজ পাতা আর বাহারি রঙের ফুলের সমাহারে এটি বাড়ির আঙিনা ও বাগানের সৌন্দর্য বাড়িয়ে তোলে। সহজে জন্মানো এবং পরিচর্যা তুলনামূলকভাবে সহজ হওয়ায় গ্রামবাংলার বাড়ির আঙিনা থেকে শহরের টবের বাগান-সবখানেই দোপাটি ফুলের রয়েছে আলাদা কদর। ছবিটি শনিবার সকাল ১১টার দিকে মৌলভীবাজার শহরের ফরেস্ট অফিস রোডের কল্লোল দেবের বাসার ছাদবাগান থেকে তোলা।