রাউজানে সন্ত্রাসীদের সঙ্গে পুলিশের গুলিবিনিময়, আহত ১২ সদস্য

নিজস্ব প্রতিবেদক
| আপডেট: ১ অক্টোবর, ২০২৬, ০৩:৪৫ পিএম | প্রকাশ: ১ অক্টোবর, ২০২৬, ০৩:৪৫ পিএম
রাউজানে সন্ত্রাসীদের সঙ্গে পুলিশের গুলিবিনিময়, আহত ১২ সদস্য
ছবি: সংগ্রহীত

চট্টগ্রামের রাউজানে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ সশস্ত্র চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে গুলিবিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে। এতে এসআই ও এএসআইসহ ১২ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দিলদার হোসেন (৩৭) নামে ওই চক্রের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে অভিযানের সময় জানে আলম ওরফে ডাকাত আলম, মোহাম্মদ আজিজ ওরফে আজিজ বসসহ পাঁচজন পালিয়ে গেছেন।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে রাউজান উপজেলার ৮ নম্বর কদলপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ কদলপুর জয়নগর বড়ুয়া পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম এসব তথ্য জানান।

পুলিশের ভাষ্য, কদলপুর ইউনিয়নের ওই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ অপরাধীচক্র বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে চাঁদা দাবি ও আদায় করে আসছিল। চক্রটির নেতৃত্বে রয়েছেন জানে আলম ওরফে ডাকাত আলম (৪২) ও মোহাম্মদ আজিজ ওরফে আজিজ বস (৫২)। রাউজানে আগে থেকেই একাধিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর তৎপরতা ছিল। রায়হান বাহিনীর অধিকাংশ সদস্য গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাদের তৎপরতা কমে গেলে ডাকাত আলম ও আজিজ বসের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীটি সক্রিয় হয়ে ওঠে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশ সুপার মাসুদ আলম জানান, সর্বশেষ ২৫ সেপ্টেম্বর আবু বক্কর চৌধুরী নামে এক ব্যক্তির কাছে চাঁদা দাবি করা হয়। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, প্রথমে তাকে ফোনে হুমকি দেওয়া হয়। পরে তার বাড়িতে গিয়ে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি যাচাই করে সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেয় পুলিশ।

এর ধারাবাহিকতায় বুধবার রাতে দক্ষিণ কদলপুর জয়নগর বড়ুয়া পাড়ায় জানে আলম ওরফে ডাকাত আলমের বসতঘরের সামনে অভিযান চালায় রাউজান থানা পুলিশ। পুলিশের দাবি, তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে ঘরের ভেতর থেকে জানে আলম, আজিজ বস, দিলদার হোসেন, মো. রুবেল (২৭), মো. মামুন-অর-রশিদ ওরফে মামুন (৩৫) ও মো. বাঁচা (৪৫)সহ কয়েকজন পুলিশকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়েন।

পুলিশও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায়। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে গুলিবিনিময় শুরু হয়। পুলিশ সুপারের ভাষ্য অনুযায়ী, এ সময় শর্টগান থেকে ১৫ রাউন্ড এবং পিস্তল থেকে দুই থেকে তিন রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়।

গুলিবিনিময়ে এসআই মো. জান্নাতুন নাঈম রাজন, এসআই মো. খোরশেদ আলম, এসআই মো. বায়েজিদ মৃধা, এসআই মো. জাহাঙ্গীর আলম, এএসআই মো. জুয়েল চন্দ্র বিশ্বাস ও এএসআই মো. রবিউল হোসেনসহ মোট ১২ পুলিশ সদস্য আহত হন।

পুলিশ জানায়, অভিযানের সময় বাড়িটি পাহাড়ের পাশে হওয়ায় গুলিবিনিময়ের সুযোগে কয়েকজন পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। পায়ে গুলিবিদ্ধ হওয়ায় দিলদার হোসেন পালাতে পারেননি। পরে তাকে আহত অবস্থায় গ্রেপ্তার করে পুলিশ এবং প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

গ্রেপ্তার দিলদার হোসেনের হেফাজত ও তার দেখানো স্থান থেকে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র, ১১৯ রাউন্ড রাইফেলের গুলি, ছয় রাউন্ড সীসা কার্তুজ এবং দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রের মধ্যে একটি ডিবিবিএল বা দোনলা বন্দুক এবং একটি এসবিবিএল বা একনলা কাটা বন্দুক রয়েছে। এছাড়া চারটি রামদা, দুটি কটি এবং দুটি গুলি রাখার পাউচ উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশের দাবি, উদ্ধার হওয়া ১১৯ রাউন্ড গুলি চায়না রাইফেলের। পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যবহৃত অস্ত্রের গুলির সঙ্গে এগুলোর মিল রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, প্রাথমিক তদন্তে দিলদার হোসেন ও পলাতক সহযোগীদের সংঘবদ্ধ ও অস্ত্রধারী অপরাধী হিসেবে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দিলদার চক্রটির কর্মকাণ্ড সম্পর্কেও তথ্য দিয়েছেন। তাকে আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হবে। জিজ্ঞাসাবাদে চক্রটির অপরাধ, অস্ত্রের উৎস এবং পলাতক সদস্যদের বিষয়ে আরও তথ্য পাওয়ার আশা করছে পুলিশ।

এর আগে মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে একই ইউনিয়নের কদলপুর এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে তিনজনকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। তাদের কাছ থেকে একটি দেশীয় তৈরি এলজি, দুই রাউন্ড সীসা কার্তুজ, একটি রামদা ও একটি ছোরা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ডাকাতির প্রস্তুতি ও অস্ত্র আইনে পৃথক দুটি মামলা করা হয়েছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে