ফেনীতে বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পানি নিষ্কাশন ও সেচ সুবিধা বাড়াতে ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্প পুনর্বাসন (১ম পর্যায়)’ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বেলা আড়াইটার দিকে পরশুরাম উপজেলার খেয়াঘাট মুহুরী ব্রিজ এলাকায় প্রকল্পটির উদ্বোধনী ফলক উন্মোচন করেন তিনি। পরে সেখানে বৃক্ষরোপণ এবং নদী খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।
এর আগে ১৬ জুন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা অনুমিত ব্যয়ে প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পের আওতায় ৬৭ দশমিক ৯২ কিলোমিটার বাঁধ পুনর্বাসন, ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ, ৮৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার নদী ও জলাধার পুনঃখনন, ২৭টি সেচ অবকাঠামো পুনর্বাসন এবং ৭৭টি ইনলেট নির্মাণ করা হবে।
প্রকল্পটির কাজ ২০৩০ সালের মধ্যে শেষ করার সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। পরবর্তী পর্যায়ে মুহুরী ও কহুয়া নদীতে নতুন বাঁধ নির্মাণের পাশাপাশি সিলোনিয়া নদীতেও বাঁধ নির্মাণ, নদী খনন ও সংস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে সড়কপথে ঢাকার গুলশানের বাসভবন থেকে পরশুরামের উদ্দেশে রওনা হন। দুপুর সোয়া ১টার দিকে তিনি ফেনীতে পৌঁছান। পরে সড়কপথে পরশুরামের অনুষ্ঠানস্থলে যান।
অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে ফেনী-১ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান। এ সময় ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য ভিপি জয়নাল আবেদীন, ফেনী-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, গৃহায়নমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন এবং সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানুসহ জেলা পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রকল্পের ফলক উন্মোচনের পর প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এরপর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন। পরে নদী খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি।
পরশুরামের কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রীর ফুলগাজীতে যাওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পর ফুলগাজী জেলা পরিষদ ডাকবাংলো পরিদর্শন করবেন তিনি। সেখানে ছাদভিত্তিক বা রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের উদ্বোধন করার কথা রয়েছে।
ফুলগাজী, পরশুরাম ও ছাগলনাইয়া উপজেলার সরকারি ভবনগুলোতে মোট ৯৬২ দশমিক ৫ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে ছাগলনাইয়ায় ৪১৫ কিলোওয়াট, পরশুরামে ২৯৮ কিলোওয়াট এবং ফুলগাজীতে ২৪৯ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বিকেলে ফুলগাজী সরকারি পাইলট হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। সেখানে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমসহ অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানী দেওয়ার কর্মসূচি রয়েছে।
ফুলগাজীতে মোট ৫১০ জন ফ্যামিলি কার্ড এবং পুরো জেলায় ৭ হাজার ৬৪৩ জন কৃষক কার্ড পাবেন। এছাড়া ফুলগাজীর ২৩৮ জন ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম ও পুরোহিতকে সম্মানী দেওয়ার কথা রয়েছে।
দিনব্যাপী কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রীর ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।